ভোজের টেবিল থেকেই মোদী বধের ছক বিরোধীদের

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) দুর্নীতির প্রতিবাদে রাজপথে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাইছে বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোট। টানা দ্বিতীয় দিনের মধ্যে দুপুরের খাবার টেবিলেই এ বিষয়ে একট্টা হন মোদী বিরোধীরা।

বুধবার জানপথের 'সাগর রত্না'-র পর বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লির কনট প্লেসের ‘মোয়েটস’ রেস্তোরাঁয় আবারো এমপিদের জন্য দ্বিতীয় দফার মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। লাগাতার দুই দিন এভাবে লাঞ্চ কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধী জোটের সব শরিকদের এক ছাতার নিচে এনে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর মানসিক চাপ বজায় রাখার এক বড় রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস। দিল্লিতে লাগাতার তোপ দাগানোর পক্ষেই বিরোধী জোট।

Rahul Gandhi 01
দিল্লিতে এই উত্তপ্ত আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল মঙ্গলবার, যখন বিরোধী এমপিরা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ মাঝামাঝি পথেই তাঁদের আটকে দেয়। সেই সময় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং ওয়েনাদের এমপি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা চাতুর্যের সঙ্গে আকাশবাণী ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন।

পরবর্তীতে পুলিশ তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং রাতে মুক্তি দেয়। তবে এই একক অবস্থান নিয়ে জোটের কিছু শরিক দলের মধ্যে মৃদু অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। শরিকদের ক্ষোভ প্রশমনে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আকাশবাণী ভবনের ভেতরের সেই অবস্থানটি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল না, পরিস্থিতি সাপেক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে তা ঘটেছিল।

Delho Protest
কংগ্রেস নেতৃত্বের সেই ভুল বোঝাবুঝি দূর করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বুধবার সাগর রত্নায় লাঞ্চের আয়োজন করা হয়। সেই লাঞ্চ শেষেই শুরু হয় আরেক তুমুল নাটকীয়তা। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া বাসে পুলিশ বাধা দিলে উইন্ডসর প্লেসের কাছে বিরোধীরা রাস্তায় বসে পড়েন। সেখানে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী হাতে সংবিধানের বই ধরে রাজপথে শুয়ে পড়েন এবং রাহুল গান্ধী ঘোষণা করেন, সিইসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। সেখান থেকেও রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ তৃণমূলের ডেরেক ও'ব্রায়েন, সিপিআইএমের জন ব্রিটাস ও সিপিআইয়ের পি সন্তোষ কুমারকে আটক করা হয়।

Rahul & Priyanka
বৃহস্পতিবারের মোয়েটসের লাঞ্চে সমাজবাদী পার্টির অংশগ্রহণ বিরোধী জোটকে নতুন অক্সিজেন দিয়েছে। বুধবারে সমন্বয়হীনতা ও বিলম্বিত আমন্ত্রণের কারণে তারা অনুপস্থিত থাকলেও, বৃহস্পতিবার অখিলেশ যাদবের নির্দেশে দলটির এমপিরা লাঞ্চে ও পরবর্তী রাজঘাট পদযাত্রায় অংশ নেন। তবে বিরোধী শিবিরে এখনও কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন থেকে গেছে; তামিলনাড়ু নির্বাচনের পর সম্পর্কচ্ছেদ হওয়া ডিএমকে এবং পাঞ্জাবের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী আম আদমি পার্টি  এখন পর্যন্ত এই প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছে।

প্রতিবাদের এই ঢেউ এখানেই থামছে না। আগামী ১০ অক্টোবর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি সংগঠনও প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ জুড়েই ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লি রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও সংঘাতের এক উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস