সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দিল্লির রাজপথ দখলের ডাক

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের সরকারের বিরুদ্ধে এবার চূড়ান্ত আর পারদ চড়ানো অলআউট লড়াইয়ের ডাক দিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। 'সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতেই হবে এবং এ নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই' জানিয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লির রাজপথে বিশাল 'প্রতিবাদ পদযাত্রা'র ডাক দিয়েছে কংগ্রেস ও মিত্র দলগুলো। একই সঙ্গে নির্বাচনী জালিয়াতি রুখতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কে সি ভেনুগোপাল এক ঝোড়ো সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ভারতের গণতন্ত্র রক্ষায় উদ্বিগ্ন প্রতিটি নাগরিকের কাছে আমাদের আকুল আহবান, মোদী-শাহ সরকারের সুপরিকল্পিত ভোট চুরির বিরুদ্ধে সোমবারে দিল্লির এই ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে যোগ দিন। জ্ঞানেশ কুমার অ্যান্ড কোম্পানিকে না হটানো পর্যন্ত আমরা একচুলও পিছপা হব না।

Delhi Protest 20
এর আগে শনিবার সকালে সিজেপির যন্তর মন্তর অভিযান ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ যে নজিরবিহীন 'লকডাউন' ও গণ-আটক অভিযান চালায়, তার শিকার হয়েছেন দেশের একাধিক সাবেক ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকে গাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরিয়ে রাখার পর হরিয়ানা-দিল্লি সীমান্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, আমরা তো কোনো অপরাধী নই! দু-ঘণ্টা ধরে পুলিশ আমাদের তুলে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে ঘুরিয়েছে, এটি কোনো গ্রেপ্তার নয়, এটি সরাসরি অপহরণ! দেশে এখন জরুরি অবস্থাও পার হয়ে 'সুপার ইমার্জেন্সি' চলছে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অনুরোধে নিজের কলকাতা ফেরার ফ্লাইট বাতিল করে দিল্লিতেই অবস্থান করছেন মমতা, যা বিরোধী ঐক্যের এক নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে। তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোমবারের মার্চে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছাচ্ছেন।

Delhi Protest 03
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও ত্রিপুরা পর্বের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ বামপন্থী শীর্ষ নেতা বৃন্দা কারাত, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, যোগেন্দ্র যাদব এবং বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকেও পুলিশ আটক করে।

কেরালা মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এক্সে (সাবেক টুইটার) কটাক্ষ করে লিখেছেন, "বিরোধীদের দেখে মোদি সরকার কতটা আতঙ্কিত যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গাড়িতে পুরে এক ঘণ্টা ঘুরিয়ে রাখতে হচ্ছে! মোদির ভয় এখন প্রকাশ্য, যা সত্যি লজ্জাজনক।"

ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ বা ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (এসআরআই) প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে ইন্ডিয়া জোটের এই নতুন মেরুকরণ মোদী সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Delhi Protest 05
ইতোমধ্যে শুক্রবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওমর আবদুল্লাহদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে সিইসির পদত্যাগ দাবি করেছেন।

শনিবারের চরম ধরপাকড়ের পর সোমবারে পুরো ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই যৌথ দিল্লি দখল কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে এক চরম বিস্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি