আজও যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক ককরোচদের

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে শনিবার দিল্লির রাজপথে ব্যাপক পুলিশি তাণ্ডব ও প্রায় ৩,০০০ আন্দোলনকারীকে গণ-আটকের পরও পিছু হটতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা এখনও পুলিশ কাস্টডিতে থাকলেও স্থানীয় সময় রোববার সকাল ১০টায় আবারওদিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

Delhi Protest 22
শনিবার রাতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক ইনচার্জ অজিঙ্কা শিন্ডে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, সিইসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের হাল ধরা অজিঙ্কা শিন্ডে বলেন, সরকার ভেবেছিল শনিবারের মতো বড় আকারের আটকের পর আমরা হয়তো বাড়ি ফিরে যাব। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই ভয়ই প্রমাণ করে যে, আমাদের লড়াইয়ের অর্ধেক জয় ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন যন্তর মন্তরের উদ্দেশ্যে আমাদের পদযাত্রা চলবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করা হচ্ছে।

Delhi Protest 21
সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি নেতারা শনিবারের পুলিশি অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেন, নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর অন্যায়ভাবে নৃশংস অত্যাচার চালানো হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে দিল্লির বিমানবন্দরে প্লেন অবতরণের পর আটক করা সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং অন্যান্য নেতাদের ঠিক কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানায়নি পুলিশ। উপরন্ত, মহারাষ্ট্রে নিজ শহরে অভিজিৎ দীপকের ঠাকুরমার মৃত্যু হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে পরিবারের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে না দিয়ে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে বলে দলটির পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

Delhi Protest 20
অন্যদিকে, এই আন্দোলনকে সর্বভারতীয় রূপ দিতে মাঠে নেমেছে দেশের একাধিক প্রবীন ও নতুন ছাত্র সংগঠন। স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ‘স্বৈরাচারী শাসক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সর্বাত্মক ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রোববার থেকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে। ছাত্রসমাজ সারা দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করবে। পুলিশ যদি সেখানে ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকানোর চেষ্টা করে, তবে সেই অবরুদ্ধ স্থানটিকেই তাৎক্ষণিকভাবে একেকটি 'যন্তর মন্তর'-এ পরিণত করা হবে।

Delhi Protest 19
উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ‘ভোট চুরি’ এবং কারচুপির মারাত্মক অভিযোগ তুলে সিইসির বরখাস্তের দাবিতে দিল্লির বুক জুড়ে এই নজিরবিহীন উত্তাপ তৈরি হয়েছে। শনিবার প্রায় ৩,০০০ আন্দোলনকারীকে আটকের পর রাতের দিকে সিংহভাগকে ছেড়ে দেওয়া হলেও শীর্ষনেতাদের বন্দি রাখা এবং রোববার সকাল ১০টায় নতুন অভিযানের ঘোষণার ফলে জাতীয় রাজধানীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Delhi Protest 18
একই সময়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটও সোমবারে বড় কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, সোমবার বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা সুপ্রিম কোর্টে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করবেন এবং ভোটাধিকার রক্ষা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করবেন। রাজপথ থেকে আদালত, সব মিলিয়ে মোদী সরকারের ওপর চাপ ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।