রাজধানী কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোর মফস্বল শহর থেকে গ্রামের দুর্গা পুজাগুলো কার্যত থিম মন্ডপের আড়ম্বর দেখা যায়। রাজ্যটির সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সকলে পুজার রীতি মেনে অঞ্জলিতে অংশ না নিলেও শিল্পের কারুকার্য দেখতে বের হন দিনে-রাতে।
রাজ্যটির শহর হোক থেকে গ্রামের বড় পুজা আয়োজকরা কাপড়, প্লাই, দড়ি, হস্ত শিল্পের উপকরণ দিয়ে তৈরি করেন মন্ডপ। দুর্গা প্রতিমাতেও থাকে নানা ধরণের বৈচিত্র। সংখ্যায় কম হলেও পুরাতন রাজ বাড়ির পাশাপাশি অনেকেই নিজের বাড়িতে দুর্গাপুজ করে থাকেন। সেখানেও থাকে বৈচিত্রতা।
রাজ্যটির নদিয়া জেলার শান্তিপুরের বিশ্বাস বাড়িতে ৮ ফুটের শিবোদুর্গার পুজো হচ্ছে এবার। যা পশ্চিমবঙ্গের ব্যতিক্রমগুলোর একটি। কারণ এখানে দেবি দশভূজা রূপ নয়, অসুর বধের রুদ্র মূর্তিও নয় স্নিগ্ধ দ্বিভুজা শিবোদুর্গা রূপে পুজ পাচ্ছেন। ৮ ফুট উচ্চতার এই অপরূপ দেবী প্রতিমা কোনো কুমারটুলি থেকে আসেনি, নিজের হাতেই পরম যত্নে গড়ে তুলেছেন শান্তিপুরের যুবক অতনু বিশ্বাস। দেবীর দশটি হাত বা অস্ত্র নেই, তিনি দ্বিভুজা ও বরাভয়দায়িনী।
দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত তিরুপতি বালাজি মন্দিরের অনুকরণে পুজ মণ্ডপ তৈরি করেছে জলপাইগুড়ি জেলার পাতকাটা অগ্রণী সঙ্ঘ ক্লাব ও পাঠাগার পুজো আয়োজকরা। বাঁশ, কাঠ, কাপড়ের পাশাপাশি আকর্ষণীয় মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে সুপারির খোল ও হোগলা পাতা-সহ বিভিন্ন ধরনের শুকনো ফল। ৬৯ তম বর্ষে দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত তিরুপতি বালাজি মন্দিরের অনুকরণে দুর্গাপুজার মণ্ডপটি ৮০ ফুট উঁচু এবং ৫৫ ফুট চওড়া।
মালদা জেলার বামনগোলা ব্লকের জগতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের হাঁসপুকুর গ্রামে দুর্গা পুজ হচ্ছে এবারই প্রথম। গ্রামের মহিলারাই পুরুষদের সরিয়ে নিজেরাই পুজোর আয়োজন করেছেন ।
দুর্গাপুরের অগ্রণী সাংস্কৃতিক পরিষদ ৫৯তম বর্ষে তাদের পুজোর থিম মন্ডপ তৈরি করেছেন আমেরিকার অক্ষরধাম স্বামীনারায়ণ মন্দিরের আদলে। বাঁশ, কাপড়, প্লাই ও ফোমের মতো বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বিশাল মণ্ডপ। আমেরিকার অক্ষরধাম স্বামীনারায়ণ মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা।