২০২৯ সালের নির্বাচনেই পতন ঘটবে মোদী সরকারের

ভারতের ২০২৯ সালের পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের পতন হবে বলে দাবি করেছেন কক্‌রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। কেন্দ্রের এই সরকার পরিবর্তনের জন্য এখন থেকেই দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনই গণতন্ত্রের একমাত্র নিরপেক্ষ পথ।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই’র খবর অনুযায়ী, শনিবার কেরালার কোচিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিশাল প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখার সময় দীপকে এই মন্তব্য করেন।

CJP Protest 04
ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মোদীকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার দাবির প্রসঙ্গে চড়াও হয়ে সিজেপি নেতা বলেন, ২০২৯ সালের জন্য আপনারা সবাই তৈরি থাকুন। মোদী নিশ্চিতভাবেই ক্ষমতা থেকে সরে যাবেন। এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বারবার প্রশ্ন করেন ২০২৯ সালে মোদী ক্ষমতা হারাবেন কি না, যা শুনে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি তুলে দীপকে অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে মোদী সরকার দেশের যুবসমাজের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, জ্ঞানেশকে অবিলম্বে যেতে হবে। তিনি সরে গেলেই মোদীর বিদায়ের পথ সুগম হবে।

CJP Protest 03
রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে দেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রবেশ করার ‘অপরাধে’ সম্প্রতি তাকে এবং সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সেই কারাবাসের স্মৃতি উল্লেখ করে অভিজিৎ দীপকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই তেরঙ্গা বহনের জন্য আমাকে ও আমার দুই ভাই সৌরভ ও আশুকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। ভারতে এমন ঘটনা শেষবার হয়েছিল ব্রিটিশ শাসনের সময়। মোদী সরকারের বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা করছে এবং জনগণের খাদ্যাভ্যাস, বিয়ে, ভালোবাসার স্বাধীনতা এমনকি ভোটদানের অধিকারও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।

CJP Protest 02
গ্রেপ্তারের ভয় উপেক্ষা করে অভিজিৎ দীপকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, নরেন্দ্র মোদীকে বলতে চাই, দেশের প্রতিটি প্রান্তে আমি এই তেরঙ্গা নিয়ে যাব। দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরালা কিংবা তামিলনাড়ু, যেখান থেকে ইচ্ছা আমাকে গ্রেপ্তার করুন। কিন্তু আমি আবার ফিরে এসে এই জাতীয় পতাকা তুলব।

কোচির এই সমাবেশ থেকে এসআইআর প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ না বলে বরং নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-ইন্ডিয়া টুডে