নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের আতাইকুলা পালপাড়া গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী ঐতিহাসিক ৫২ শহীদের বধ্যভূমি পড়ে আছে অযত্নে আর অবহেলায়। স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও আজও এই বধ্যভূমিতে সংস্কারের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। যেন দেখার কেউ নেই। দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পার হলেও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।
আতাইকুলা পালপাড়ার বধ্যভূমিটি শহীদ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের উদ্দ্যোগে কোনো রকমে ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রেখেছেন মাত্র কিন্তু এটি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে আগামীর প্রজন্মের কাছে নতুন করে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনার দ্রুত বাস্তবায়ন চান শহীদ পরিবার ও স্থানীয়রা।
সরজমিনে গিয়ে ওই দিনের নারকীয় ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী প্রদ্যুত চন্দ্র পালের কাছ থেকে জানা যায়, ব্রাশফায়ারে শহীদদের মধ্য থেকে তিনি অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান। আর ব্রাশফায়ারে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় কোনো রকমে বেঁচে যায় নিখিল চন্দ্র পাল, সাধন পাল, গিরেন্দ্রনাথ পাল, নিধুবন চন্দ্র পাল, শ্রীমত পাল, ওমর পালসহ ৮ জন। তবে ওই দিনের নারকীয় ঘটনায় বেচেঁ যাওয়া আরেকজনের নাম সঠিক ভাবে জানা যায়নি।
প্রদ্যুত পাল আরও জানান, ওই দিন তার বাবা, কাকা, জ্যাঠা এবং গ্রামের লোকজনের সাথে তাকেও সারিবদ্ধ করে চালায় ব্রাশফায়ার। মুহুর্তের মধ্যে প্রাণ হারায় ৫২ জন লোক। হানাদার বাহিনীরা চলে যাবার পর অক্ষত, রক্তাক্ত ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লাশের মধ্য থেকে কোন রকমে বেঁচে গিয়ে তিনিসহ ৮ জন বাড়িতে ফিরে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন মনোয়ারা হক ১৯৯৭ সালে নিজ উদ্যোগে কিছু অনুদান দিয়ে কোনো রকমে ফলকে শহীদদের নাম লিপিবদ্ধ করার কাজ সম্পন্ন করেন। এরপর এখানে আর কোনো কাজ হয়নি। তাই বধ্যভূমিটি পড়ে আছে অযত্নে আর অবহেলায়।
শহীদ গোবিন্দ চরন পালের ছেলে গৌতম পাল বলেন, অনেক চেষ্টার পর ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ৫২ জন শহীদের আত্মদান স্মরণে বধ্যভূমি সংরক্ষণ, শহীদদের নাম সরকারি গেজেট অন্তর্ভুক্তি, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ ও শহীদদের অসহায় পরিবারকে মূল্যায়ন ও আর্থিক সাহায্য প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের সমস্যার কারণে এখন পর্যন্ত বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আমরা ইতোমধ্যেই ৮ শতাংশ জমি বধ্যভূমিতে দান করেছি। আশা রাখি দ্রুতই বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। আর আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করা হবে।
এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জমি অধিগ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।
একাত্তর/এআর