করোনাভাইরাস আমূলে বদলে দিয়েছে জনজীবন। ভাইরাস প্রতিরোধে বিধিনিষেধে কর্মক্ষেত্রে কমানো হয়েছে জনবল। আর তা করতে গিয়ে অর্ধেক জনবলে কাজের যে প্রক্রিয়া বিশ্বব্যাপী চালু হয়েছে তার এক ভিন্ন ইতিবাচক দিকই দেখছে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান।
আর তাই ভাইরাস অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সময়ের তাগিদে একসময় যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেটাই জারি রাখতে আগ্রহী তারা।
এমনই একটি বিষয় কর্মক্ষেত্রে ছুটির দিন এবং কর্মঘণ্টা। করোনা বিধিনিষেধে অনেক অফিসেই ছুটির দিন বাড়িয়ে কাজ চালু রাখা হয়েছিল। আর এতে কাজের ক্ষতির বিপরীতে বরং সুফলই পেয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
তাই করোনা চলে গেলেও বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত পাঁচদিন অফিস করে দুইদিন ছুটির যে নিয়ম আছে তা ভেঙে চারদিন অফিস করে তিন দিন ছুটির দিকে ঝুঁকছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনই কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পরও কোভিডকালীন নিয়মে তিন দিন ছুটি চালু রাখা একটি প্রতিষ্ঠান আইজিওফোর। ডিজিটাল ইন্স্যুরেন্স ব্যবসাকেন্দ্রিক এই প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীই চারদিন অফিস করে তিনদিন ছুটি পাচ্ছে।
তবে এর জন্য বেতনে কোনো প্রভাব না ফেলে প্রতি কর্মদিবসে একঘণ্টা বেশি কাজ করার নীতি অনুসরণ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাট মুনরো বলেন, এই মহামারি কর্মক্ষেত্রে নমনীয় হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে আমাদের সচেতন করেছে। তার মতে, কাজের পুরনো ধারায় ফেরত যাওয়া মোটেও ঠিক নয়।
আরও পড়ুন: ৭৯ বছর বয়সে অস্ত্র ধরেছেন এ নারী, ইউক্রেনবাসী বলছে 'নায়ক'
‘আমাদের মনে হয়েছে এই মহামারি থেকে আমরা ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে নতুন কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি যা সবার জন্যেই ভালো একটি ফলাফল বয়ে আনবে’।
তিনি বলেন, সবাইকে একদিন বেশি ছুটি দেওয়ার মাধ্যমে নিজের সঙ্গে কাটানোর জন্য আরও সময় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আর তারপর বিশ্রাম নিয়ে কাজে ফিরলে তা শরীর ও মনকে চাঙ্গা করে তুলবে, যা কাজের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং কর্মকর্তা জর্জিয়া প্রসের ছোট কর্ম সপ্তাহকে দারুণ বলে অভিহিত করেন। ‘যা আমি এমনিতে করবো না, সময় থাকায় সেটাও করারও সুযোগ পাচ্ছি’। সপ্তাহে তিন দিন ছুটি পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, কাজ শেষ করার জন্য সময় কম পেয়েও তা করাটা অতিমাত্রায় সহজ লাগে।
তবে সব কাজের ক্ষেত্রে এমনটা হওয়া সম্ভব না বলেও স্বীকার করেন নেন আরেক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পেরি টিমস। বিশেষ করে সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রগুলোতে এটা সত্যিই খুব কঠিন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকাদের নিজেদের জিজ্ঞেস করা দরকার তারা কতটা দিতে পারছেন কিংবা কর্মীদের বিশ্রাম দিয়ে কম সময়ে কী তারা আরও বেশি কাজ করিয়ে নিতে পারে?
তবে মহামারি পরবর্তী সময়ে বিধিনিষেধ মেনে নিউ নর্মালে ফেরত আসার পর অন্যরাও এই কর্মপন্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একাত্তর/টিএ