গল্প বলা একটি জাদুকরী শিল্প। ঘটনাগুলোকে একত্রিত করে এরপর তা উপস্থাপন করার মাধ্যমে শ্রোতাদের আবদ্ধ করে তোলার জাদু এটি। তিনিই একজন সফল গল্পকার হতে পারেন যিনি দর্শকদের মুগ্ধ করতে পারেন। এটি হতে পারে লিখিত শব্দ, কথিত বা ছবির মাধ্যমে। গল্প বলার বিভিন্ন উপায় ধরন যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। আমরা এই প্রতিবেদনে গল্প বলার পাঁচটি ফর্ম সম্পর্কে বলবো, যা বয়স যাই হোক না কেন সকলেই পছন্দ করে।
পঞ্চতন্ত্র
পঞ্চতন্ত্র হলো সে পুরানো গল্প বলার ধরন, যা আমাদের দাদি, নানিরা বলতেন। কিছু পশুপাখি যারা মানুষের মতো জীবনযাবন করে, তাদের জীবনের স্ট্রাগল ইত্যাদি নিয়ে শিশুদের যে শিক্ষামূলক গল্প শোনানো হয় তা হলো পঞ্চতন্ত্র। এই গল্প বলার ফর্মটি বহু আগে থেকেই ভারতীয় উপ মহাদেশে চলে আসছে।
পুতুলশিল্প বা পাপেট্রি
পুতুলশিল্প বহু অঞ্চলে জনপ্রিয় লোকশিল্প। পাপেট্রি হলো কাপড় এবং কাঠের তৈরি ডামিগুলির মাধ্যমে গল্প বলার শিল্প। পুতুল তৈরি করে তার জন্য গল্প লিখে সে অনুযায়ী পুতুলকে দোলানো দর্শকদের দুর্দান্ত আনন্দ দেয়। পুতুলনাটক কল্পনা ও গল্প বলার নিখুঁত মিশ্রণ তৈরি করে।
হরিকথা
হরিকথা বা হরির গল্প (সাধারণত ভগবান বিষ্ণুকে বলা হয়) ভারতীয় সংস্কৃতিতে একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প। কথাকার বা অভিনয়শিল্পীরা রামায়ণ ও মহাভারতের গল্প, লোককাহিনী ও ধর্মীয় গল্পগুলো শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপন করেন। ভারতের অনেক রাজ্যে হরিকথা উপস্থাপন করার সময় কথাকাররা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেন। তারা তাদের গান, গল্প ও বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে শ্রোতাদের আকৃষ্ট করেন।
পটচিত্র
চাক্ষুষ গল্প বলার একটি রূপ হলো পটচিত্র। যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গল্প বলার আরেকটি প্রাচীন রূপ। পটচিত্রে একটি কাপড়ে আঁকা চিত্রের মাধ্যমে গল্প বলা হয়। দক্ষ শিল্পীরা, যাদের বলা হয় ‘চিত্রকার’ তারা প্রাচীন লোককাহিনী, ধর্মীয় ঘটনা বা তাদের অন্তর্গত অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় গল্পের গল্প দিয়ে কাপড়ে এই চিত্রগুলো আঁকেন। ঐতিহ্যবাহী পটচিত্রগুলি গাছপালা ও খনিজ পদার্থ থেকে পাওয়া প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করে তৈরি করা হতো। কিছু লোক আজও এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। পারফরম্যান্সের সময়, চিত্রকাররা এই স্ক্রোলগুলি উন্মোচন করে, ছন্দ, মন্ত্র ও অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে গল্পগুলি বর্ণনা করেন।
দাস্তানগোই
গল্প বলার একটি আকর্ষনীয় রূপ হল দাস্তানগোই। এটি একটি প্রাচীন উর্দু মৌখিক গল্প বলার শিল্প। একজন দাস্তাঙ্গো বা গল্পকার শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ভাষা, অঙ্গভঙ্গি, ভয়েস মড্যুলেশন এবং আরও অনেক কিছুকে একত্রিত করেন। দস্তানগোই ছন্দময় ও সুরেলা পদ্ধতিতে শ্রোতাদের নায়ক, জাদুকর ও অ্যাডভেঞ্চারের জগতে নিয়ে যায়। দাস্তানগোই শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করে না বরং এর গল্প বলার শক্তি দিয়ে শ্রোতাদের বিমোহিত করে।