সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ রাখার বিষয়ে তথ্য জানাতে গেলো ১৭ জুন সবশেষ চিঠি দেয়া হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রোববার (১৪ আগস্ট) হাইকোর্টে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চে বিএফআইইউ’র প্রতিবেদনটি জমা দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। পরে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান তিনি।
ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইস ব্যাংক চলতি বছরের ১৬ জুন বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
পরের দিন এগন্ট সিকিউর ওয়েবের (ইএসডব্লিউ) মাধ্যমে সুইচ ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যাংক ও ব্যক্তির জমানো অর্থের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে সুইজারল্যান্ডের এফআইইউকে অনুরোধ করা হয়, তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০১৩ সালের জুলাইতে ইএসডব্লিউ’র সদস্য হওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত ৬৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য চায় বাংলাদেশ।
ইএসডব্লিউর মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের এফআইইউকে এ তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করা হয়, কিন্তু ২০১৪ সালে একজন ছাড়া অন্যদের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানায় সুইজারল্যান্ড। আর ওই একজনের তথ্য দুদককে দিয়েছে বিএফআইইউ।
গেলো ১০ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন- ডিকাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি শুয়ার্ড বলেন, সুইস ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির তথ্য চায়নি।
আরও পড়ুন: সুইস রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য প্রত্যাহার ছাড়া উপায় নেই: হাইকোর্ট
সুইস রাষ্ট্রদূতের এ বক্তব্য সব সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি নজরে নিয়ে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমাকারীদের তথ্য কেন জানতে চাওয়া হয়নি, তা রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানাতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
নির্দেশ মেনে বিএফআইইউর প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেয়। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
একাত্তর/এসজে