ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে উস্কানিমূলক ছয়টি ভিডিও সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। দু’সপ্তাহের মধ্যে ফেসবুক-ইউটিউব কর্তৃপক্ষ ও বিটিআরসিকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে হবে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
ফেসবুক-ইউটিউবে বাংলাদেশ সর্ম্পকে বিভ্রান্তিমূলক পোষ্ট সরিয়ে নিতে ২১ আগস্ট আইনজীবী নিলুফার আনজুম ও আশরাফুল ইসলাম বিটিআরসিকে নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়েছিলো, ফেসবুক ও ইউটিউব কর্তৃপক্ষ অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়াতে উসকানিমূলক পোস্টের ওপর নজর রাখতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, 'সম্প্রতি দেখা গেছে ফেসবুক ও ইউটিউব তাদের নজরদারি কৌশল পুরোপুরি অনুসরণ করছে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটছে।
বাংলাদেশে প্রচুর ভুয়া সংবাদ, কনটেন্ট, ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে করে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবীর সম্মানহানি হচ্ছে।
পররাষ্ট্রনীতির অনেক স্পর্শকাতর তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সম্প্রচারের কারণে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বাংলাদেশেরও।
বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা এবং দেশে অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে এমন কাজ করা হচ্ছে। সে নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
মঙ্গলবার সেই রিটের আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন উসকানিমূলক ৬টি ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
বিটিআরসি ও ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে ফেসবুক ও ইউটিউবে সব নিউজ ও ভিডিও প্রকাশ বিষয়ে সত্যতা নিরূপণে আইন অনুসারে জবাবদিহির কৌশল নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুন্সী মনিরুজ্জামান ও আরাফাত হোসেন খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জের্নি নারেল বিপুল বাগমার।
বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, আদালতের আদেশ মেনে উস্কানিমূলক পোষ্ট সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর আগেও আদালতের নির্দেশে ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে বিভিন্ন উস্কানিমূলক পোষ্ট সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
একাত্তর/এসি/আরএ