পারিবারিক আদালতে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জাপানি দুই শিশুর মধ্যে ছোট শিশু নাকানো লায়লা লিনা বাবার কাছে একদিন ও মায়ের কাছে একদিন করে থাকবে।
আর পারিবারিক আদালতের দেয়া রায় অনুযায়ী বড় মেয়ে মায়ের কাছেই থাকবে। বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের আদালত এই আদেশ দেন।
সকালে জাপানি দুই সন্তান নাকানো লায়লা লিনা ও নাকানো জেসমিন মালিকা ও তাদের বাবা মা ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতে হাজির হন।
লায়লা লিনার মায়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। তিনি ওই সন্তানকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করেন। আর বাবার পক্ষে শুনানি করেন নাসিমা আক্তার লাভলী। তিনি লিনাকে বাবার হেফাজতে রাখার প্রার্থনা করেন।
শুনানি নিয়ে বিচারক দুই সন্তানের সঙ্গে কথা বলেন। দুই শিশুর মধ্যে ছোট মেয়ে লায়লা লিনা বিচারকের খাস কামরায় জানায় সে বাবার কাছে থাকতে চায়।
আদেশের আগে বিচারক বলেন, লিনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে বাবার কাছে থাকতে চায়। না হয় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে যেতে চায়। সে মায়ের সঙ্গে জাপানে যেতে চায়নি। তবে বলেনি মায়ের কাছে থাকবে না। এরপর নতুন আদেশ দেন বিচারক।
আদালত জানায়, আপিল শুনানি পর্যন্ত লিনা একদিন তার মা নাকানো এরিকোর কাছে এবং আরেকদিন বাবা প্রকৌশলী ইমরান শরীফের কাছে থাকবে। আদেশ শুনে আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে লায়লা লিনা।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি বাবা ইমরান শরীফের মামলা খারিজ করে দুই সন্তান তার মায়ের জিম্মায় থাকবে বলে রায় দেন আদালত।
কিন্তু রায়ের পর থেকে মেজো মেয়ে লিনার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে করেন তার মা।
পরে বুধবার ভোরে কালাচাঁদপুরে আত্মগোপন করা বাবা ইমরান ও মেয়ে লিনাকে গুলশান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র্যাব।
আরও পড়ুন: আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি পেলো বাংলাদেশ
এর আগে মঙ্গলবার রাতে মা নাকানো এরিকো তাঁর বড় মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে ইমিগ্রেশন পুলিশ বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়।
মায়ের জিম্মায় সন্তানদের দেয়ার রায়ের বিরুদ্ধে ইমরান শরীফ পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল করেছেন। যার শুনানি হবে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি।
একাত্তর/এসজে