শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ চার জনকে যাবজ্জীবন ও ৪৪ জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন সাতক্ষীরার একটি আদালত।
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে দুই দশক আগে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।
এর মধ্যে অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের দুইটি মামলায় মঙ্গলবার সাতক্ষীরার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক বিশ্বনাথ মণ্ডল এ রায় দেন বলে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের অতিরিক্তি অ্যাড: ফাইমুল হক জানিয়েছেন।
যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া চারজনের মধ্যে হাবিব ছাড়াও রয়েছেন কলারোয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কাদের বাচ্চু, কলারোয়া পৌর যুবদলের সভাপতি আরিফুর রহমান রঞ্জু ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি রিপনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
কারাগারে থাকা ৩৭ আসামীর মধ্যে হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৩৪ জনকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়েছিল। অসুস্থতার কারণে তিনজন কারাগারে থাকার পরও আদালতে আসতে পারেননি।
এছাড়া জামিনে থাকা আসামীর মধ্যে আইনজীবী আব্দুস ছাত্তার আদালতে হাজির থাকলেও আইনজীবী আব্দুস সামাদ আদালতে হাজির ছিলেন না। ৯ জন আসামী প্রথম থেকেই পলাতক রয়েছে। দুইজন কারাগারে মারা গেছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা থাকার সময় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরায় ধর্ষণের শিকার মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে যান শেখ হাসিনা। সেখান থেকে সড়কপথে ফেরার সময় কলারোয়ায় বিএনপি অফিসের সামনে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার উপরে ফেলে রেখে পথরোধ করে গাড়িবহরে হামলা চালায়। হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংবাদিকসহ অনেকেই আহত হন।
হামলার ওই ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২১ সালে এক মামলার রায়ে ৫০জন আসামির ৪ থেকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় ছিলেন পিপি আব্দুল লতিফ, অতিরিক্ত পিপি ফাহিমুল হক কিসলু, অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদসহ কয়েকজন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টুসহ প্রমূখ।
সাজা পেলেন যারা
সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব, কলারোয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কাদের বাচ্চু, কলারোয়া পৌর যুবদলের সভাপতি আরিফুর রহমান রঞ্জু ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি রিপন, কলারোয়া উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আশরাফ হোসেন, উপজেলা মৎস্য দলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল রকিব মোল্যা, কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা গাজী আক্তারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মফিজুল ইসলাম, পৌর ছাত্র দলের সভাপতি আব্দুল মজিদ, বিএনপি নেতা এড. আব্দুস সামাদ, বিএনপি নেতা হাসান আলী।
কলারোয়া উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আলী, বিএনপি নেতা ময়না, বিএনপি নেতা শিক্ষক আব্দুস সাত্তার, সাবেক উপজেলা ছাত্র দালের সভাপতি খালেদ মজ্ঞুর রোমেল, বিএনপি নেতা তোফাজ্জেল হোসেন সেন্টু, যুবদল মাজাহারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক, বিএনপি নেতা আব্দুর রব, বিএনপি নেতা জহুরুল ইসলাম, যুগীখালী ই্উপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রসুল।
বিএনপি নেতা এড. আব্দুস সাত্তার, যুবদল নেতা রিংকু, যুবদল নেতা আব্দুস সামাদ, বিএনপি নেতা আলাউদ্দীন, যুবদল নেতা আলতাফ হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তৌফিকুর রহমান সনজু, ছাত্র দলের সহ সভাপতি নাজমুল হোসেন, বিএনপি নেতা সাহাবুদ্দিন, বিএনপি নেতা সাহেব আলী, বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম, যুবনেতা টাইগার খোকন, যুবদল নেতা ট্রলি সহিদুল, বিএনপি নেতা কনক।
আরও পড়ুন: সম্মিলিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ কামরুল হোসেন, যুবদল নেতা মনিরুল ইসলাম, যুবদল নেতা ইয়াছিন আলী, পৌর বিএনপির সহ সভাপতি আখলাকুর রহমান শেলী, বিএনপি নেতা শাহিনুর রহমান, বিএনপি নেতা বিদার মোড়ল, যুবদল নেতা সোহাগ হোসেন, বিএনপি সমর্থক মাহাফুজার রহমান মোল্যা, জামায়াত কর্মী গফ্ফার গাজী, সাবেক উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি মাহাফুজুর রহমান সাবু।
এদের মধ্যে মাহাফুজুর রহমান সাবু ও লাকি কারাগারে থাকাকালিন মারা গেছেন। পলাতক রয়েছেন-নাজমুল হোসেন, মোঃ আলাউদ্দিন, আব্দুল কাদের বাচ্চু, রিপন, মফিজুল ইসলাম, খালেদ মঞ্জুর, রোমেল, মাজাহারুল ইসলাম, আব্দুল মালেক ও রবিউল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
একাত্তর/আরবি