নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রত্যয়ে ১১ পেরিয়ে একাত্তর

মানুষের মন জয় করা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় চ্যানেল একাত্তর টেলিভিশন ১১ পেরিয়ে ১২ বছরে পা দিলো। এই সময়ে সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার, নারীর প্রতি বৈষম্য এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে কখনো আপোষ করেনি একাত্তর টেলিভিশন। বরাবরই এসবের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করেছে গণমাধ্যমটি। তুলে ধরেছে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার খবর।

২০১২ থেকে ২০২৩, ‘সংবাদ নয় সংযোগ’ -স্লোগানে দেশের প্রথম এইচডি সংবাদভিত্তিক চ্যানেল একাত্তর। যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, সেই লক্ষ্যের ধারক একাত্তর টেলিভিশন।

সম্প্রচারে এসেই সংবাদ প্রচারে নতুনধারা আর ভিন্নমাত্রা যোগ করে একাত্তর। কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা আর মৌলবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কারণে খুব কম সময়েই জয় করে গণমানুষের হৃদয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একাত্তর টেলিভিশন প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু বলেন, ‘মৌলবাদী রাজনীতির প্রভাবে আমাদের সামাজিক উষ্ণতাও বেড়েছে। সুতরাং একটি ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দেশ গড়ার আগামীদিনের চ্যালেঞ্জ আরেকটু প্রকট হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি এবং আমরা সে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’

একাত্তরের পথচলায় বরাবরই প্রাধান্য পেয়েছে খবরের পেছনের খবর। এই ১১ বছরে কখনো মাথানত করেনি কোনো অপশক্তির কাছে। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে এমনটাই বলছেন একাত্তরের কারিগররা।

একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিল আহমেদ বলেন, ‘একাত্তর টেলিভিশন সবসময় চেয়েছে বাংলাদেশের কথা বলতে। বাংলাদেশ মানে এমন একটা দেশ- যা একাত্তরের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে।

‘দেশের সকল ধর্মমত ভিন্ন না রেখে অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটি দেশ আমরা গড়ে তুলবো, গড়ে উঠবে- তার জন্য নিরলসভাবে একাত্তর টেলিভিশন কাজ করছে বলে আমরা মনে করি।’

একাত্তরের এডিটরিয়াল হেড নূর সাফা জুলহাস বলেন, ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, ইনফোটেইনমেন্টে এমন অনেক শো’র নাম বলা যাবে, বহু প্রমাণ্য চিত্রের নাম বলা যাবে, অনেক ফিচারের নাম বলা যাবে, অনেক তথ্য-বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের নাম বলা যাবে যেখানেও মানুষের বিনোদন অধিকার, মানুষের তথ্য অধিকার এবং মানুষের যে স্বার্থ, আগ্রহ, কৌতূহল সেগুলো নিয়ে একাত্তর কাজ করে যাচ্ছে।’

একাত্তর টেলিভিশন তার পথচলায় বরাবরই গণমানুষের মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। নানা প্রতিকূলতায় পাশে দাঁড়িয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদেরও।

একাত্তরের হেড অফ আউটপুট শহীদুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান এগিয়ে যাওয়া তথ্য-প্রযুক্তির সাথে টেলিভিশন মাধ্যমকে খাপ খাইয়ে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং সেইসাথে সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটা প্রভাব আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে এডোপ্ট করে সঠিক তথ্যটা মানুষের সামনে তুলে ধরাটাই এখন গণমাধ্যমসহ টেলিভিশনগুলোর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য একাত্তর টেলিভিশন এগিয়ে যাচ্ছে।’

টেলিভিশনের হেড অফ প্রডাকশন আহমেদ রেজাউর রহমান, ‘বাংলাদেশে এমন কোনো চ্যানেল নেই যে, আমাদের আগে নতুন কিছু দিতে পেরেছে। সেটা প্রডাকশন বলেন, প্রমোশনাল বলেন, নিউজ বলেন কিংবা সরাসরি সম্প্রচার। একাত্তর সবসময় এগিয়ে ছিলো, দর্শককে সে সবকিছুতে এগিয়ে রেখেছে।’

সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও একাত্তর টেলিভিশন অবস্থানে দৃঢ় থাকবে। কারণ একাত্তর মানেই বাংলাদেশ।

একাত্তর/আরএ