দুদকের মামলায় ডিআইজি মিজানের ১৪ বছর কারাদণ্ড

দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় পুলিশের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬’র বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমামের আদালত এ রায় ঘোষণা করে।

ডিআইজি মিজানকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪’র ২৬(২) ধারায় ৩ বছর, ২৭(১) ধারায় ৬ বছর ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এছাড়াও এ মামলার অপর তিন আসামি ডিআইজি মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

তাদের তিনজনকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪’র ২৭(১) ধারায় ৩ বছর ও মানি লন্ডারিং আইনে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬’র বেঞ্চ সহকারী জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার সময় মিজানকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। জামিনে থাকা তার ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানও আদালতে হাজির ছিলেন। এ তিনজনকে সাজার পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামি মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার ওরফে রত্না রহমান পলাতক রয়েছেন।

গত ৫ জুন এ আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করে। ওইদিনও আসামি ডিআইজি মিজানকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা আসামি তার ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগনে মাহমুদুল হাসানও আদালতে হাজিরা দেন। তবে তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। গত ১২ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন।

আরও পড়ুন: দেশের শীর্ষ মাদক কারবারিদের নাম-ঠিকানা চাইলো হাইকোর্ট

২০১৯ সালের ২৪ জুন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে ডিআইজি মিজানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর ডিআইজি মিজানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তিন কোটি সাত লাখ পাঁচ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।


একাত্তর/জো