বন্দরনগরীতেও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু

ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এডিস নিধনে ড্রোনসহ ফগার মেশিন নিয়ে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে একশো দিনের বিশেষ কর্মসূচি। তবে, নগরীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় মানুষের সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করেছেন মেয়র। 

এদিকে নগরবাসী বলছেন সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মাঝেমাঝে মশার নিধনের বিষ স্প্রে করা হলেও তা কোন কাজে আসছে না। নগরবাসী মশা নিধনে ড্রোন কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানালেও অনেক এলাকায় মশা মারার বিষ স্প্রে করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন।

আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। আগে শহর কেন্দ্রীক হলেও এখন প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়েছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। চলতি মৌসুমে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর অন্তত ৫৫ শতাংশ গ্রাম থেকে আসা। বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এই রোগটি। 

গেলো ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬৫ জন। আর ডেঙ্গুতে জেলায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৩ জন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ডের শয্যায় স্থান সংকুলন না হওয়ায় মাটিতেও চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা। 

এর বাইরে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। রোগী ও স্বজনরা বলছে, মৌসুমের শুরু থেকে ডেঙ্গুর ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরও আক্রান্ত হয়েছেন তারা। চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গু অনেক পুরোনো রোগ হলেও, এবার তার চরিত্র আলাদা। বেড়েছে ভয়াবহতা।

অনেকটা হাঁকডাক দিয়ে এডিশ মশা নিধনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একশো দিনের ক্রাশ প্রোগ্রামে নামলেও ঝিমিয়ে গেছে কার্যক্রম। ফলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এদিকে ৪৯০টি হটস্পটের পাশাপাশি চিহ্নিত করা হয়েছে ডেঙ্গুর পঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।

নগরীতে এডিস নির্মূলে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সচেতনতা ছাড়া শুধু পতঙ্গনাশক স্প্রে করে এডিস নিধন সম্ভব না। রোববার সকালে নগরীর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় ছাদ বাগানসহ বিভিন্ন জায়গায় মশা নিধন অভিযানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রধান আবুল হাশেম বলেন, ডেঙ্গু চিহ্নিত হট স্পটের বাইরে অন্যান্য এলাকায় মশা নিধনের কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন স্প্রে ও ফগার মেশিন কেনা হয়েছে। ২২ জুন থেকে নগরে ১০০ দিনের মশা নিধনের বিশেষ কার্যক্রমের অভিযানে, এরমধ্যেই বাসাবাড়ির লোকজনকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেও ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেড়েই চলেছে। 


একাত্তর/এআর