শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের করা মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তিন আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চেয়েছেন। এদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুনের অভিযোগ, মামলা মেট্রোরেলের চেয়েও দ্রুতগতিতে চালানো হচ্ছে। তবে আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে সময়ক্ষেপণের চেষ্টার অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খানের।
বৃহস্পতিবার তৃতীয় শ্রম আদালতের জেলা ও দায়রা জজ শেখ মেরিনা সুলতানার এজলাসে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে তারা এসব কথা জানান।
বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় আদালত চত্বরে আসেন ড. ইউনূসসহ মামলার চার আসামি। দুপুর সোয়া ১টায় শুরু হয় শুনানি। তবে শুনানির মধ্যে তাদের শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে বিচারক চারজনকেই কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর বদলে কক্ষের ভেতরে বেঞ্চে বসে শুনানিতে অংশ নেয়ার অনুমতি দেন।
এসময় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পেশ করা ২৮ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে চারজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাফাই-সাক্ষী দেয়া হবে না বলেও জানানো হয়। মামলার পরবর্তী যুক্তিতর্কের জন্য ১৬ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমি যেসব উদ্যোগ নিয়েছি কোনোটিই ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য নেইনি। সেটা গ্রামীণ ব্যাংক কিংবা অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠান হোক। যেকোনো একটি কাজ করতে গেলে ভুলভ্রান্তি হবে। ভুলভ্রান্তি এক জিনিস, অপরাধ আরেক জিনিস। এ দুটোকে আলাদা করা যায়, একটা ভুলভ্রান্তি আর আরেকটা অপরাধ।
আদালতের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ন্যায় বিচার। মানুষ আদালতের কাছে ন্যায় বিচারের জন্য আসে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মেট্রোরেলের চেয়ে ১০ গুণ বেশি গতিতে মামলা চলছে। এই আমলটি তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে, কেন করতে হবে? এই মামলার কোনো মেরিট নাই। আমরা সাফাই-সাক্ষী দিলাম না এই কারণে, কারণ মামলা প্রমাণের দায়িত্ব বাদির। প্রমাণের দায়িত্ব আমাদের নয়।
এদিকে আসামিপক্ষ অযথা সময়ক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, একটা শ্রম আইনের ৩০৩ এর ঙ ধারা, সেখানে সর্বোচ্চ সাজা হলো ছয় মাস। আরেকটা ৩০৭ ধারা, সেখানে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা। আজকে ৩৪২ এর জন্য ছিলো, আর্গুমেন্টের জন্য না। দুঃখজনক হলেও সত্য উনি ৩৪২'কে টুইস্ট করে আর্গুমেন্ট করেছেন।
আগামী ১৬ নভেম্বর যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, সেদিন থেকে আসামিদের প্রতি তারিখে আদালতে হাজির থাকতে হবে।
এর আগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান ২০১১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে বাদি হয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনুসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইন ৪ এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।