সহজেই রক্তাদাতাদের খোঁজ দেবে ‘বাঁধন’ অ্যাপ

মুমূর্ষ রোগীর জন্য রক্ত দরকার? হাতের কাছেই পেয়ে যাবেন দেশের ৬০ হাজার রক্ত দাতার তথ্য। রোগী যে এলাকার হাসপাতালে ভর্তি আছেন তার আশ পাশের রক্তদাতাদের ফোন নম্বর ও নামসহ সব তথ্য আলাদা করে পাওয়া যাবে। স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাঁধনের ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে এমন একটি অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়েছে। যার নাম দেয়া হয়েছে বাঁধন অ্যাপ। 

দেশের তরুণ সমাজের উচ্ছাস আর সাহসকে পূঁজি করেই গড়ে উঠেছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন- বাঁধন।  রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানের জন্য গড়ে তোলা এই সংগঠন এখন সবার কাছে আশা ও ভরসার কেন্দ্র। বাঁধনের ২৬ বছর পুর্তি উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বের হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার। 

শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাত ধরে সেই ১৯৯৭ সালে। যা এখন দেশের সবচেয়ে বড় রক্তদাতা সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে এই সংগঠন এখন দেশের ৫৪টি জেলার ৭৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৬ বছর পুর্তি উপলক্ষ্যে বাধন একটি অ্যাপ তৈরি করেছে। 

যেখানে রেজিস্ট্রেশন করে যেমন মুমুর্ষদের পাশে দাঁড়ানো যাবে। তেমনি রোগীরা সরসরি রক্তদাতার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন। এই অ্যাপে রক্তদাতা ও গ্রহীতার লোকেশন অনুযায়ী আলাদা তথ্যের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যাপের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল।

বাঁধানের কর্মিরা জানান, তারা সেই দিনের স্বপ্ন দেখেন, যেদিন থেকে রক্তের অভাবে দেশে আর কোন রোগীর মৃত্যু হবে না। দেশের সক্ষম প্রতিটি ব্যাক্তি স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে এগিয়ে আসবেন। 

সারা দেশে বাঁধনের কার্যক্রম আছে এমন ইউনিটগুলোর নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নতুন রক্তদাতা এই অ্যাপে যুক্ত হতে থাকবেন। এ ছাড়া রক্তদাতার খোঁজে বাঁধন অ্যাপে যাঁরা নিবন্ধন করবেন, তাঁরাও চাইলে রক্তদাতা হিসেবে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। অ্যাপটিতে রক্তদাতার তথ্যের পাশাপাশি দেশের ৫৮টি জেলার দুই হাজার হাসপাতালের তথ্য দেওয়া আছে।

‘একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন’ মূলমন্ত্রে স্বেচ্ছায় রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল থেকে যাত্রা শুরু করে বাঁধন। বর্তমানে দেশের ৫৪টি জেলায় ৭৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১২টি জোন, ১৪১টি ইউনিট ও ৩টি পরিবারের মাধ্যমে বাঁধন স্বেচ্ছাসেবী এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।