আজ মহান মে দিবস। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাড়ছে মাথাপিছু আয়। কিন্তু ধনী-গরিবের বৈষম্যও থাকছে আগের মতই। কারণ চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দরিদ্র মানুষের শ্রমের মূল্য বাড়ছে না, হচ্ছে না ভাগ্যের পরিবর্তন। তারা পিছিয়ে পড়ছেন নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায়।
ঠাটা রোদ। আকাশে জ্বলন্ত সূর্য। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস! মাথার উপর কয়লার ঝুড়ি নিয়ে দৌড়ে ট্রাকে নিয়ে ভরছেন এসব প্রায় নিরন্ন আদম সন্তানেরা!
ফাঁকা করে ফেলে রাখা দুই টুকরো কাঠের পাটাতনের উপর দিয়ে আসা যাওয়া করেন এই কয়লা শ্রমিকেরা। একটু অসতর্ক হলেই ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। এমন ঝুঁকিতেই দশ পনেরো কেজির সাত ঝুঁড়ি কয়লার বোঝা টেনে মিলবে মাত্র ২০ টাকা।
কাজের শুরু দিনের শুরুতে তবু দুই তিনশ’ টাকা রোজগার করতেই পূর্বের সূর্য, ঢলে পড়ে পশ্চিমে। এর মধ্যেই একটুখানি বিশ্রামের সময় পেলেই ধুলা-বালী-কয়লা-মাটিতে মাখামাখি হয়ে যাওয়া বাচ্চাকে দুগ্ধপান করান এসব শ্রমজীবী মায়েরা।
ইট ভাটা শ্রমিকদের কাজ চলে সারাদিন রোদে পুড়ে পুড়ে। কারণ কড়া রোদে ইট শুকায় দ্রুত। ফলে ইট তৈরি হয় বেশি। তবে কাঁচা ইটের কারিগররা, প্রতি ইটে পান মাত্র ২৫ পয়সা। ইট খেলার বাকি শ্রমিকরা কাজ করেন দিন হাজিরায়।
ইট শ্রমিক কামরুন নাহারের কষ্টটা আরও বেশি। সাড়ে ১১ বছরের ছেলেটি মারা গেছে। তাও ১৬ বছর হয়ে গেলো। একমাত্র মেয়ে পড়ে ক্লাস টেনে। স্বামীর আয় তেমন না। ফলে স্বামী সন্তানের মুখে দু’মুখো অন্ন তুলে দিতে বাধ্য হয়েই রাস্তায় ইট ভাঙছেন। বললেন এক ট্রাক ইটের খোয়া ভাঙলে আয় চার হাজার টাকা। কিন্তু তা ভাঙতে লেগে যায় তার এক থেকে দেড় মাস।
সূর্যাস্তের পর বিদায় নেবে মে’ দিবস। নতুন সূর্য উঠবে কাল। কিন্তু সেই নতুন দিনে বদলাবে কী দু’মুঠো অন্নের জন্য হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দেয়া এমন মানুষদের জীবনের হাল!