ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতবাড়ির গাছ কাটা নিয়ে বিরোধের জের ধরে কাজী সিরাজুল ইসলাম (৫৭) নামের এক ব্যক্তিকে হাতুড়ি ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে মাসুদ রানা (৪০) নামে অপর একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর গ্রামে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত সিরাজুল ইসলাম মানিকগঞ্জের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, কাজী সিরাজুল ইসলাম কর্মস্থল মানিকগঞ্জ থেকে গত শুক্রবার বিকেলে নিজ গ্রামে আসেন বোনদের কোরবানির মাংস দেওয়ার জন্য। বাড়িতে আসার পর তিনি দেখতে পান তাদের বসতবাড়ির কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি তার আপন ভাতিজা সুমনের (৪০) কাছে কারণ জানতে চান। কিন্তু সুমন কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো চাচা সিরাজুলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে সুমন ও তার ভাই তুষার (৩২) ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা সিরাজুলের ওপর হাতুড়ি ও কাঠের বাটাম নিয়ে হামলা চালান এবং তাকে বেদম মারধর করেন। এ সময় অপর ভাতিজা মাসুদ রানা চাচাকে বাচাতে এগিয়ে এলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় সিরাজুল ইসলামকে উদ্ধার করে ফরিদপুর শহরের হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দুই ভাই সুমন ও তুষার পলাতক রয়েছেন।
সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আল মামুন শাহ সংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।