গ্রীষ্মের রুক্ষতা পেরিয়ে প্রকৃতিতে এখন বর্ষার দোলা। আর এই বর্ষার আবহে ২১ জুন বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে মুক্তি পেয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ‘বরষা ঋতু এলো এলো’। কবির এই অমর সৃষ্টিতে একদিকে যেমন ফুটে উঠেছে প্রকৃতির নবীন উচ্ছ্বাস ও মেঘ-বৃষ্টির চিরন্তন সৌন্দর্য, তেমনি প্রকাশ পেয়েছে বর্ষার এক রুদ্র রূপ।
বর্ষাকে কেন্দ্র করে যুগলবন্দীর আদলে তৈরি এই বিশেষ গানটিতে মূলত কণ্ঠ এবং সেতারকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন নজরুলসংগীত শিল্পী বর্ণালী সরকার। সেতার বাজানোর পাশাপাশি এর সংগীত পরিচালনা করেছেন জাহাঙ্গীর আলম (শ্রাবণ)।
কাজী নজরুল ইসলামের এই বর্ষার গানের সঙ্গে বর্ষার ঐতিহ্যবাহী রাগ ‘মেঘ’ এর সমন্বয় ঘটিয়ে পুরো কম্পোজিশনটি সাজানো হয়েছে। গানটিতে পাখাওয়াজ ও তবলায় সংগত করেছেন রবীন্দ্রনাথ পাল এবং পিয়ানোয় ছিলেন কৌশিক আহমেদ অন্তর। গানটির মিক্সিং ও মাস্টারিং করেছেন ইফতে খাইরুল আলম শুভ এবং এর ভিডিও নির্মাণ করেছে ‘শ্যাডো ক্রিয়েটিভস’। ‘বরষা ঋতু এলো এলো’ গানটি শিল্পীদের নিজস্ব অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে অবমুক্ত করা হয়েছে।
গানটি প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা জানান, সংগীতের মানুষ হিসেবে বিশ্ব সংগীত দিবস তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। বর্ষা যেমন প্রকৃতিকে সজীব করে তোলে, তেমনি বর্ষার গানও মানুষের মনকে প্রাণবন্ত করে দেয়। এই গানে বর্ষার আবহকে শ্রোতাদের কাছে আরও জীবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলতে শুধু কথা আর সুর নয়, বাদ্যযন্ত্রের বিন্যাসকেও সমান প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। নজরুলসংগীতের মূল সুর ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে করা এই ভিন্নধর্মী আয়োজনটি নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে সমাদৃত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।