যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিবিসিসিআই) একটি প্রতিনিধিদল।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট লন্ডনের একটি হোটেলে তাদের এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বিবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন চেম্বারের নব নির্বাচিত ডিরেক্টর জেনারেল মুসলেহ আহমেদ। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং চেম্বারের সিনিয়র ডাইরেক্টরবৃন্দ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিবিসিসিআই-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট মাতাব চৌধুরী ও সাইদুর রহমান রেনু, ডিরেক্টর শফিকুল ইসলাম এবং ডিরেক্টর গোলাম কিবরিয়া ওয়েছ এবং বাংলাদেশে রেলওয়ে সেক্টরে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান আইএম পাওয়ার পিএলসি-এর চেয়ারম্যান গর্ডন ডিকি।
সৌজন্য সাক্ষাৎটি বাংলাদেশ সরকার এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংযোগ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
আলোচনায় বিবিসিসিআই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে চেম্বারের অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণ, পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রতিনিধিদল উভয় দেশের অর্থনীতিতে ব্রিটিশ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের বিষয়টি তুলে ধরে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
যোগাযোগমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়নে বিবিসিসিআই-এর দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমাজের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে বিবিসিসিআই-এর ডিরেক্টর জেনারেল মুসলেহ আহমেদ বলেন, ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সবসময় যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে। মাননীয় মন্ত্রীর আন্তরিক সময় ও গঠনমূলক মতবিনিময়ের জন্য আমরা তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং বাংলাদেশ সরকার, বিবিসিসিআই ও বৃহত্তর ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে উভয় দেশের পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।