শ্রাবণ সন্ধ্যার অঝোর বর্ষণের মাঝে সুর, নৃত্য ও আবৃত্তির এক অন্যরকম মেলবন্ধন ঘটল ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় লাল-কালো পোশাকের আবহে শুভ ও মঙ্গলের বারতা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গাই বাংলার গান পর্ষদ’-এর বিশেষ অনুষ্ঠান ‘অন্তর্দাহ-স্মৃতি দাহ মিলন’।
ঘণ্টাব্যাপী এই সাংস্কৃতিক আয়োজনে গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, বাঁশির সুর ও দলীয় সংগীতের মাধ্যমে সময়ের অস্থিরতা, গভীর শোক, প্রেম-বিরহ এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের চিরন্তন লড়াইয়ের রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘গাই বাংলার গান পর্ষদ’-এর মুখ্য সংগঠক ফজলুল কবীর তুহিন। সাম্প্রতিক সময়ে চারপাশে তৈরি হওয়া সাংস্কৃতিক শূন্যতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমাদের জীবনে সংস্কৃতির প্রভাব অপরিসীম। সংস্কৃতি মানুষের মনন, মূল্যবোধ ও মানবিকতাকে বিকশিত করে। কিন্তু ইদানীং চারপাশে যে অসহিষ্ণুতা তৈরি হয়েছে, তার বিপরীতে দাঁড়ানোর প্রত্যয় থেকেই ‘অন্তর্দাহ’-এর আয়োজন।” তিনি যোগ করেন, ‘অন্তর্দাহ’ কেবল একটি প্রথাগত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন ও ইতিহাসকে আঁকড়ে ধরে আবার মানবের কাছে ফেরার এক বিনম্র প্রয়াস।
‘সকাতরে ঐ কাঁদিছে মলয়... শোনো শোনো পিতা’ সুরের মূর্ছনা দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে গান পরিবেশন করেন অলোক কুমার দাশ, ইউসুফ হাসান অর্ক, মৌসুমী সরকার, মৌমিতা ও অমিতা। শিল্পীদের কণ্ঠে উঠে আসে অন্তর্দাহের বেদনা ও সহমর্মিতার বার্তা।
আয়োজনে নৃত্য পরিবেশন করেন প্রান্তিক, প্লাবন্তি ইতি ও শান্তনা। বেলায়েত হোসেন ও মহিউদ্দীন শামীমের আবৃত্তি অনুষ্ঠানটিতে যোগ করে ভাবগম্ভীর আবাহ। বাঁশিতে একক সুর তুলে শ্রোতাদের বিমোহিত করেন তপু দাস। এ ছাড়া মিউজিক্যাল ধ্রুপদ পরিবেশন করেন সবুজ, শান্ত ও কামরুল। ছিল শিল্পীদের যৌথ দলীয় সংগীতও।
সংগীত, কবিতা, নৃত্য ও বাদ্যযন্ত্রের এই সমন্বিত পরিবেশনা ছায়ানটের মঞ্চে মুহূর্তেই গড়ে তোলে স্মৃতি, দ্রোহ, শোক ও চেতনার এক প্রদীপ্ত প্রকাশ।