ভেনিস উৎসবে ক্রিটিকদের বিশেষ স্বীকৃতি পেলেন রুবাইয়াত

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিজয়রথ অব্যাহত। বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর জন্য ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র সমালোচকদের সম্মানজনক পুরস্কার ‘প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো’ অর্জন করেছেন বাংলাদেশি নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইতালির ভেনিসে এই স্বীকৃতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এর আগে প্রথম বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ৮৩তম ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের মর্যাদাপূর্ণ ‘অরিজন্তি’ প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিল ছবিটি। সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চেই এবার মিললো ক্রিটিকদের বিশেষ স্বীকৃতি।

সমকালীন ঢাকার পটভূমিতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রের মূল চরিত্র 'জাইনিন'। বিয়ের আগের রূপচর্চা ও আচার-অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির মধ্যে গিয়ে এক তরুণী কীভাবে উপলব্ধি করে যে তার নিজের শরীরই এক অমূল পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে—তা নিয়েই গল্পের বুনন। নারীবাদী ফোক হরর, বডি হরর ও অতিপ্রাকৃত ধারার মিশ্রণে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে নারীর শরীর, পারিবারিক প্রত্যাশা ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

পুরস্কার পেয়ে অনুভূতি জানাতে গিয়ে রুবাইয়াত হোসেন বলেন, খুবই অন্তরঙ্গ অনুভূতি থেকে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নির্মাণ করেছি। নারীরা কীভাবে নিজেদের শরীর ধারণ করতে, নিয়ন্ত্রণ করতে এমনকি ভয় পেতে শেখে—তা ভাবিয়েছে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকদের এই স্বীকৃতি আমার জন্য ভীষণ অর্থবহ। এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে বিশ্ব দর্শক বাংলাদেশকে কেবল সামাজিক বাস্তবতায় নয়, বরং তার কল্পনা, রূপকথা, অন্ধকার ও সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে আবিষ্কার করুক।

ভেনিস উৎসবে প্রিমিয়ারের পর থেকেই সিনেমাটি বৈশ্বিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মাধ্যম ‘ইন্ডিওয়্যার’ ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করে উল্লেখ করেছে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার বিয়ের ঐতিহ্যবাহী উপাদানকে চমৎকার এক ‘ফেমিনিস্ট ফোক হরর’-এ রূপান্তর করেছে।

ফ্রাঁসোয়া দার্তেমার প্রযোজিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ মূলত বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ও পর্তুগালের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত একটি আন্তর্জাতিক প্রযোজনা। এর আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে ‘ফিল্মস বুটিক’।

ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শেষে ছবিটি এবার উত্তর আমেরিকার মর্যাদাপূর্ণ 'টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব' (টিএফএফ)-এ তাদের উত্তর আমেরিকার প্রিমিয়ারের মাধ্যমে পরবর্তী উৎসব যাত্রা অব্যাহত রাখবে।