বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ থাকা সত্ত্বেও দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপকে নতুন করে তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আসন্ন রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিটি ব্যাংক পিএলসির নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেটেড ঋণের আওতায় এই অর্থ দেওয়া হবে। এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারার বিধান আগামী বছরের (২০২৭) ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সিটি গ্রুপের যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এই নতুন ঋণ সুবিধা পাচ্ছে, সেগুলো হলো—সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি ডাল মিলস্ ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস্। সবগুলো প্রতিষ্ঠানই ভোগ্যপণ্য ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের দুই ডজন ব্যাংকের কাছে সিটি গ্রুপের প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে এসব ঋণ খেলাপি হয়ে পড়লেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তা খেলাপি না করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে পরবর্তীতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকের পর পুরো বিষয়টি সিন্ডিকেট ঋণের রূপান্তরে বিশেষ কৌশল নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আইনে যা বলা আছে এবং যে শর্তে ছাড়
ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারা অনুযায়ী, কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা বা তার গ্রুপভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাধারণত নতুন কোনো ঋণ সুবিধা দিতে পারে না। তবে আইনের শর্তে বিশেষ ছাড় দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ঋণের বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো আর্থিক দায় সৃষ্টি হবে না এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সহায়তা দাবি করতে পারবে না।
ঋণ ব্যবহারের কঠোর শর্ত
নতুন করে এই ঋণ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে—
ব্যাংকগুলোকে নতুন ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত নিতে হবে।
সিন্ডিকেটেড ঋণের অর্থে আমদানিকৃত কাঁচামাল বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ নির্দিষ্ট ব্যাংকে জমা রাখতে হবে এবং সেখান থেকে ব্যাংকগুলো আনুপাতিক হারে তাদের কিস্তি বুঝে নেবে।
ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকগুলোর সিকিউরিটি এজেন্টের প্রতিনিধি বা জিম্মাদার হিসেবে পণ্য ক্রয় ও প্রক্রিয়াজাত করবে।
ঋণের অর্থ অন্য কোনো খাতে স্থানান্তর বা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং পুরো অর্থ ও পণ্য ব্যবস্থাপনা কঠোর নজরদারিতে রাখবে ব্যাংকগুলো।