মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে শনিবার যাত্রা শুরু করবে বিশ্বের প্রথম থ্রিডি প্রিন্টেড রকেট 'টেরান ১'। এর আগে বুধবার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে এর উড্ডয়নের কথা ছিল। কিন্তু তাপমাত্রা সম্পর্কিত সমস্যার কারণে শেষ মুহূর্তে উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর একটা থেকে ৪টার মধ্যে রকেটটি কক্ষপথে স্যাটেলাইট স্থাপন করবে। তথ্য সংগ্রহের জন্য একে কক্ষপথে পাঠানোর আট মিনিট পরে পৃথিবীর খুব কাছে পৌঁছে যাবে ‘টেরান-১’।
রকেটটি তৈরি করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার কোম্পানি রিলেটিভিটি স্পেস। রকেটটি ১১০ ফুট লম্বা এবং ব্যাস ৭.৫ ফুট। এর শতকরা ৮৫ ভাগের ভর থ্রিডি প্রিন্টেড। ব্যবহার করা হয়েছে ধাতব শংকর।
রিলেটিভিটি স্পেসের তথ্য অনুযায়ী, রকেটটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছার পর এটাই হবে প্রথম বেসরকারি অর্থায়নে তৈরি যান, যাতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মিথেন।
লংবিচ ভিত্তিক কোম্পানিটির মতে, এটিই হলো সবচেয়ে বড় থ্রিডি প্রিন্টেড বস্তু। রকেটটি পরিচালিত হচ্ছে এয়োন ইঞ্জিন দিয়ে। তাতে ব্যবহার করা হচ্ছে তরল অক্সিজেন এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস।
আরও পড়ুন: যাত্রীবাহী বাস থেকে হাজার পিস ইয়াবাসহ একজন আটক
উল্লেখ্য, ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ, যা থ্রিডি প্রিন্টিং নামেও পরিচিত, এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে ডিজিটাল মডেল থেকে কার্যত যেকোনো আকৃতির ত্রিমাত্রিক কঠিন বস্তু তৈরি করা যায়। যুত প্রক্রিয়ায় ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ করা হয় যাতে ধাতু বা অন্যবস্তুর স্তর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আকৃতিতে একটি ওপর আরেকটি যুক্ত হতে থাকে।
প্রথাগত যান্ত্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ স্বতন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়, কেননা প্রথাগত পদ্ধতিতে কোনো কিছু তৈরি করতে হলে একটি ধাতু বা বস্তুকে কেটে অথবা ছিদ্র করে কাঙ্ক্ষিত আকার দেয়া হয়। এই প্রিন্টার সাধারণত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ত্রিমাত্রিক মুদ্রণের কাজ করে। একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে এই মেশিনের বিক্রি ব্যাপকভাবে বেড়েছে, এবং এগুলোর দামও বেশ অনেকটা কমেছে।
একাত্তর/আরবিএস