ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের কারণে এটিএম কার্ডের পিন নম্বর হাতিয়ে নিয়ে যে কারো ব্যাংক একাউন্ট ফাঁকা করে দিতে পারে প্রতারক চক্র। সাথে মোবাইল ব্যাংকিং থেকেও হাওয়া হয়ে যেতে পারে টাকা। হারাতে পারেন ফেসবুক বা ইমেইল আইডি।
এ অবস্থায় দেশের ব্যাংক, হাসপাতালের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দ্রুত বাড়তি সুরক্ষা নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রযুক্তিবিদদরা।
অর্থের মতোই মূল্যবান তথ্য। যে কারণে তথ্য কিনতে কোটি কোটি ডলার খরচ করতেও রাজি বিশ্বের উন্নত দেশগুলো।
৭ জুলাই নাগরিক তথ্য ফাঁসের খবরে তোলপাড় হলো দেশ। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট নয় নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হলে কী হবে?
হতে পারে হঠাৎ আপনার এটিএম কার্ডের পিনকোড কাজ করছে না। একাউন্ট চেক করে দেখতে পারেন সব টাকা শেষ। আপনার পরিচয়েই কেউ টাকা তুলে নিয়েছেন। কাউকে সহজে বোঝাতে পারবেন না যে, মানুষটি আপনি নন। এভাবে হারাতে পারেন নিজের ফেসবুক-ইমেল আইডি, অনলাইনে শপিং না করেও গুনতে হবে বিল, নিজের মুঠোফোনে থাকা কল-এসএমএস চলে যেতে পারে অন্যের হাতে।
ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হলে কেউ আপনার পরিচয় ব্যবহার করে করতে পারে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ, চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলের মতো সামাজিক অপরাধ।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির জানান, পিনকোড বা পাসওয়ার্ডের মতো তথ্যগুলো গোপনীয় থাকার কারণ হলো যেন এগুলো ব্যবহার করে আপনার পরিচিতি ভেরিভাই করা যায়। তাই এগুলো ফাঁস হলে চাইলে অন্য কেউ আপনার একটি নকল পরিচিতি তৈরি করতে পারে। সেটি ব্যবহার করে করতে পারে নানা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড।
তবে তিনি জানান, যেহেতু ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার বা এনআইডি সার্ভার সুরক্ষিত, তাই এখনই বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ তৈরি না হলেও প্রতারণার ঘটনা বাড়তে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম জানান, তথ্য ফাঁসের ফলে নকল আইডি ব্যবহার করে মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধ ঘটতে পারে, এমন অনেক আর্থিক হিসাব বা ঋণের দায়ও অনেকের ঘাড়ে চাপতে পারে, যার সাথে প্রকৃতপক্ষে তারা যুক্ত নয়।
আরও পড়ুন: তথ্য সুরক্ষায় দুই কমিটি, সাতদিনের ভেতর প্রতিবেদন: পলক
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের বছর সাইবার আক্রমণের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই এসময় সাইবার সুরক্ষায় আরও নজরদারির প্রয়োজন বলে মনে করেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
একাত্তর/জো