তিন বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ভেঙে পড়তে পারে সাইবার নিরাপত্তা 

আগামী তিন বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা ভেঙে পড়তে পারে তাসের ঘরের মতন। কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ নানা খাতে আসতে পারে একের পর এক সাইবার হামলা; এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে হ্যাক হয়ে যেতে পারে সবচেয়ে জটিল পাসওয়ার্ডটিও। 

এমন শঙ্কা জানিয়ে প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, দেশকে সুরক্ষিত রাখতে এখনই কোয়ান্টাম সেইফ প্রোগ্রাম চালু করা প্রয়োজন। 

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সুপার কম্পিউটারকেও সাধারণ কম্পিউটার বানিয়ে ফেলেছে কোয়ান্টাম কম্পিউটার। অত্যন্ত জটিল সমস্যার সমাধানে যদি সাধারণ কম্পিউটারের ঘন্টার পর ঘন্টা লাগে, সেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার  সেটি সেরে ফেলবে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে। বিষয়টি অনেকটা এমন, সাধারণ একটি কম্পিউটারকে যদি গরুর গাড়ির সঙ্গে তুলনা করা হয় তাহলে কোয়ান্টাম কম্পিউটার হলো দ্রুত গতির বুলেট ট্রেন কিংবা রকেট।

প্রথাগত কম্পিউটারগুলো  মূলত জিরো এবং ওয়ান বিটস দিয়ে পরিচালিত হয়। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ফর্মুলায় একটা বিটই দুটো অবস্থাতেই থাকতে পারে। অর্থাৎ জিরো হতে পারে আবার একই সঙ্গে ওয়ানও হতে পারে। ফলে একটি মোটামুটি শক্ত পাসওয়ার্ড ভাঙতে সাধারণ কম্পিউটারের যেখানে ১০ বছর লাগতো, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের জন্য কয়েক সেকেন্ডই যথেষ্ট। 

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন হাসপাতাল, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মত অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যে পাসওয়ার্ড বা গোপনীয়তা রাখা হয়, সেই গোপনীয়তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হবে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং। তাই এখনই নিরাপত্তার জন্য কাজ শুরু করতে হবে।

শংকা আরও আছে। কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যয়বহুল হলেও যখন বাজারে আসবে তখন গতির কারণে তার চাহিদা বাড়বে। ফলে প্রচলিত কম্পিউটার কার্যত বাদ হয়ে যাবে। তখন কি হবে সেই পরিকল্পনা এখনই তৈরি করতে হবে।

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন শটকাট ট্রেনিং নিয়ে সর্বাধনিক প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া কঠিন কাজ। একারনে ইন্ডাস্ট্রির চাহিদার সাথে মিলিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যসূচিতেও এই প্রযুক্তিকে যুক্ত করার প্রয়োজন।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন। এমনকি পাশের দেশ ভারতও চলতি বছরই বিশাল অংক বিনিয়োগ করেছে। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশকেও এইখাত নিয়ে ভাববার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।