দুধের সুনামি! চীনে সফলভাবে ছাগলের ক্লোন

ভেড়া ডলির দিন শেষ, এবার প্রজনন দুনিয়ায় রাজত্ব করতে আসছে চীনের 'সুপার গোট' বা উন্নতজাতের ছাগল! উত্তর-পশ্চিম চীনের শায়ানসি প্রদেশে গবেষকরা যা ঘটিয়েছেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। ছাগল প্রজননের বাজারে রীতিমতো সুনামি এনে প্রথমবারের মতো ছয়-ছয়টি উচ্চমানের, রেকর্ড পরিমাণ দুধ দেয়া ছাগলের সফল ক্লোনিং সম্পন্ন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।

বেইজিংয়ের পশু প্রজনন প্রযুক্তিতে এই ঘটনাকে ধরা হচ্ছে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে। এই সাহসী গবেষণাটি পরিচালনা করেছে চীনের নর্থওয়েস্ট এঅ্যান্ডএফ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তুখোড় গবেষক।


বিজ্ঞানীদের ল্যাব থেকে সুস্থ-সবলভাবে বেরিয়ে এসেছে ছয়টি ক্লোন করা ছাগলছানা, যার মধ্যে চারটি পুরুষ (পাঁঠা) এবং দুটি স্ত্রী (ছাগী)। এই ছানাগুলোর আসল 'উৎস' বা ডোনার ছিল বিশ্ববিখ্যাত উচ্চমানের সানেন জাতের ছাগল। সাধারণ ছাগল যেখানে একটু আধটু দুধ দিয়েই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, সেখানে এই সানেন জাতের ছাগলগুলোর বার্ষিক গড় দুধ উৎপাদনের পরিমাণ শুনলে চোখ কপালে উঠবে, প্রায় ২ হাজার ৮০০ কেজিরও বেশি! এখন সেই একই জিন নিয়ে মাঠ কাঁপাবে এই ক্লোন করা ছাগলগুলো।

গবেষকদের বুক ফুলিয়ে করা দাবি অনুযায়ী, এই ক্লোন করা ছাগলগুলো শুধু বালতি বালতি দুধই দেবে না, বরং এদের দুধের চর্বি (ফ্যাট) এবং প্রোটিনের মান সাধারণ ছাগলের দুধকে অনায়াসেই টেক্কা দেবে। এখানেই শেষ নয়, এই 'সুপার গোট'গুলোর প্রজনন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে স্থিতিশীল, যেকোনো কঠিন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা জাদুকরী এবং রোগবালাই তো এদের ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারবে না। এক কথায়, নিখুঁত অল-রাউন্ডার!

এই অসাধ্য সাধনের পেছনে কাজ করেছে বিজ্ঞানীদের একটি দুর্দান্ত মলিকিউলার ব্রিডিং সিস্টেম। সেখানে জিনোমিক সিলেকশন এবং সোমাটিক সেল ক্লোনিং টেকনোলজিকে একসাথে গুলিয়ে এক নতুন রসায়ন তৈরি করা হয়েছিল। পুরো অপারেশনটি ছিল দেখার মতো।


প্রথমে উচ্চমানের কোষগুলোকে আলাদা করে একটি জুতসই কোষ লাইন তৈরি করা হয়। এরপর চলে ল্যাবের ভেতর নিখুঁতভাবে ভ্রূণ পুনর্গঠনের কাজ। সেই পুনর্গঠিত ভ্রূণগুলোকে সফলভাবে সারোগেট ছাগলের জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং সবশেষে চলে কঠোর গর্ভধারণ পর্যবেক্ষণ, যার চূড়ান্ত ফল এই ছয়টি ফুটফুটে ও শক্তিশালী ছাগলছানা।

দুধের বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এবং দুগ্ধজাত পণ্যের ঘাটতি মেটাতে চীনের এই ক্লোন প্রযুক্তি আগামী দিনে ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যায়, সেটাই দেখার বিষয়। তবে ছাগলের এই নতুন 'বংশগতি' যে ছাগল প্রজননের ইতিহাসকে এক ঝটকায় বদলে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই!