সাধারণ এক মঙ্গলবার সকালে ড্রেন পরিস্কার করতে গিয়ে এমন এক অবিশ্বাস্য চমক এনে দেবে, তা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি ১৮ বছর বয়সী তরুণ কোবে! বেলজিয়ামের ব্রাসেলস থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সিন্ট-গিলিস-ডেনডারমন্ড এলাকায় নর্দমার পাইপ পরিবর্তনের কাজ করতে গিয়ে উদ্ধার হয়েছে আনুমানিক ৯ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৯৮ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার ও দুর্লভ স্বর্ণমুদ্রা।
গ্রীষ্মকালীন চুক্তিতে কাজে আসা কোবে ও তাঁর সহকর্মীদের এই চোখ কপালে তোলা আবিষ্কার এখন বেলজিয়ামজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। বেলজিয়ান টিভি চ্যানেল ভিটিএম’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে কোবে আনন্দের সাথে বলেন, আমরা হঠাৎ মাটিতে কিছু একটা পড়ে থাকতে দেখি। প্রথমে ভেবেছিলাম ১ ইউরোর সাধারণ মুদ্রা! কিন্তু একটু ভালো করে তাকাতেই দেখি একটি খাঁটি স্বর্ণের বার। ভুল ভেঙে বোঝা গেল, আমরা যা ভাবছি এটি তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু!
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ শতকের শেষের দিকে বিখ্যাত বিয়ার প্রস্তুতকারক থিওফিলাস ভ্যান অ্যাশের একটি বিলাসবহুল ভিলার মাটির নিচে এটি গোপন করা ছিল। একটি পুরানো সুড়ঙ্গ বা সেলারের ইটের দেয়ালের পেছনে একটি ব্যাগে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সিল করে রাখা হয়েছিল সোনার মুদ্রা, বিশেষ খণ্ড এবং নির্দিষ্ট নম্বরযুক্ত স্বর্ণবারগুলো।
উদ্ধারকৃত স্থানটিতে ১৮৯৯ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বিয়ার তৈরির কাজ চলত। ঐতিহাসিক ভবনটি বর্তমানে 'সিএডাব্লিউ ওস্ট-ভ্ল্যান্ডেরেন' নামের একটি সামাজিক কল্যাণ সংস্থা নতুন অফিস ও আবাসন তৈরির জন্য সংস্কার করছিল। সিএডাব্লিউ’র কর্মকর্তা গির্ট হিলার্ট জানান, ঐতিহাসিক ভবনটির শুধু বাইরের দেয়ালগুলো রেখে ভেতরে সংস্কারকাজ চালানোর সময়ই ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে হঠাৎ সন্ধান মেলে এই গুপ্তধনের।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন স্থানটি ঘিরে ফেলে এবং স্বর্ণের বারগুলো কঠোর নিরাপত্তার সাথে ব্রাসেলসের ভল্টে স্থানান্তরিত করে। এই গুপ্তধনের আসল মালিক কে, তা নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছেন কর্মকর্তারা। পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রসিকিউটর অফিসের হানে ওলেভিয়ার জানান, স্বর্ণগুলো কোনো চুরি বা অপরাধের সাথে যুক্ত কি না তা আগে খতিয়ে দেখা হবে।
বর্তমানে এই কোটি কোটি টাকার মালিকানা নিয়ে শুরু হতে পারে জটিল আইনি লড়াই! দাবিদারদের তালিকায় রয়েছে সংস্কারকাজের ঠিকাদার, সামাজিক সংস্থা এবং প্রাচীন ভ্যান অ্যাশে পরিবারের উত্তরাধিকারীরা। বেলজিয়ামের আইনানুযায়ী, গুপ্তধন উদ্ধারের পর প্রকৃত মালিকের খোঁজে অন্তত পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়।
তবে ১৮ বছরের তরুণ কোবে বেশ বাস্তববাদী ও রসিকতার সুরেই স্বীকার করেছেন, এত বিপুল পরিমাণ সোনা নিজের পকেটে রেখে দেয়া সম্ভব ছিল না। কিছুটা প্রত্যাশার সুরে তিনি যোগ করেন, যদি দু-একটি সাধারণ মুদ্রা হতো তবে হয়তো লুকানো যেত, কিন্তু এত স্বর্ণ তো জমিয়ে রাখা অসম্ভব! দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারী হিসেবে অন্তত কোনো পুরষ্কার বা পুরস্কারের বখরা পাই কি না!
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি