কানে পড়ার মতো নয়, যেন আস্ত এক সোনা ও হিরে-মুক্তোর পাহাড়! ওজন শুনলে মাথা ঘুরে যেতে বাধ্য—একেকটি কানের দুলের ওজন ছাড়িয়ে গেছে ১৬ কেজি! ২২ ক্যারেটের খাঁটি স্বর্ণের তৈরি এই বিশাল আকৃতির এক জোড়া চোখধাঁধানো কানের দুল বিশ্বজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ‘এ থাউজেন্ড পিকক’ বা ‘এক হাজার ময়ূর’ নামের এই বিস্ময়কর সৃষ্টি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ভারী কানের দুল হিসেবে নাম লিখিয়েছে মর্যাদাপূর্ণ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
গত শনিবার দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের জমকালো ‘জুয়েল অব জয়’ শোরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয় দুল দুটি। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ও পর্যটনমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মারি, জুয়ালুক্কাস গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. জয় আলুক্কাস, প্রধান নির্বাহী জন পল আলুক্কাসসহ আন্তর্জাতিক জুয়েলারি খাতের নামিদামি ব্যক্তিত্বরা।
গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুল দুটির সম্মিলিত নিট স্বর্ণের ওজন চমকে দেয়ার মতো- ১৬.৫১৪ কেজি, যা এর আগের যে কোনো বিশ্বরেকর্ডের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণেরও বেশি! বিশাল এই অলংকারের দৈর্ঘ্য ১ দশমিক মিটার এবং ব্যাস ০ দশমিক ৬৮২ মিটার। অবিশ্বাস্য এই সুনিপুণ নকশা ও নির্মাণকাজে রূপ দিতে ৫৫ জন দক্ষ কারিগর একটানা পরিশ্রম করেছেন, যার পেছনে ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮৪০০ কর্মঘণ্টা।
দুবাইভিত্তিক বিখ্যাত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জুয়ালুক্কাসের প্রধান নির্বাহী জন পল আলুক্কাস জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির চার দশকের পথচলা এবং দুবাইকে বিশ্বজুড়ে ‘স্বর্ণের শহর’ হিসেবে আরও উঁচুতে তুলে ধরার অনুপ্রেরণা থেকেই এমন ব্যতিক্রমী কিছু গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঘণ্টাকৃতির দুল বা ‘ঝুমকা’র আদলে তৈরি এই মাস্টারপিসের নামকরণের পেছনে রয়েছে এক পৌরাণিক আবহ। ভারতীয় সংস্কৃতিতে ময়ূর সৌন্দর্য, গর্ব ও আভিজাত্যের প্রতীক। রূপকথার সেই ঐশ্বরিক ময়ূরের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এক হাজার পালকের আদলে সাজানো হয়েছে দুলটি, যার প্রতিটিতে জড়িয়ে রয়েছে এক একটি প্রার্থনা ও স্বপ্নের প্রতীক।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একজন বিচারক আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি বিশ্বরেকর্ডের সনদ তুলে দেন জুয়ালুক্কাস কর্তৃপক্ষের হাতে। কোনো প্রবেশমূল্য ছাড়াই এখন থেকে সাধারণ মানুষ ও বিশ্বজুড়ে আসা পর্যটকরা ‘জুয়েল অব জয়’ শোরুমে গিয়ে সামনাসামনি দেখতে পাবেন স্বর্ণ মোড়ানো এই অবিশ্বাস্য ও রাজকীয় শিল্পকর্মটি।