ঢাকা ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

১৩ অক্টোবর বড়ইতলা গণহত্যা দিবস

নিজস্ব প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২১ ১১:০৯:৫৫ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২১ ১১:০৯:৫৫
১৩ অক্টোবর বড়ইতলা গণহত্যা দিবস

স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। অথচ সেই স্বাধীনতার জন্যে এদেশের ৩০ লাখ মানুষকে জীবন ও আড়াই লাখ মা বোনকে সম্ভ্রম দিতে হয়েছে। একাত্তরে পাকবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার আলবদররা দেশে হাজার হাজার বধ্যভূমিতে মুক্তিকামী লাখ লাখ মানুষকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। তেমনি একটি বধ্যভূমি কিশোরগঞ্জের বড়ইতলা। ১৯৭১ সালের ১৩ অক্টোবর মুক্তিকামী মানুষকে একত্রে জড়ো করে নৃশংসভাবে ৩৬৫ জনকে হত্যা করেছিল পাকসেনারা। 

বুধবার (১৩ অক্টোবর) বড়ইতলা গণহত্যা দিবস। বেদনাবিধূর এ দিনটি পালন করতে নেয়া হয়েছে নানান কর্মসূচি। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ স্বজনরা এ গণহত্যায় পাকসেনাদের সহায়তাকারী স্থানীয় রাজাকার ও আলবদরদের যুদ্ধাপরাধী আইনে বিচার দাবি করেছেন । 

মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের জন্মভূমি কিশোরগঞ্জের যশোদলের বীরদামপাড়া গ্রামে। তাই পাক বাহিনী ও রাজাকারদের শ্যেন দৃষ্টি পড়ে ওই এলাকার দিকে। ১৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ সদরে সৈয়দ নজরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি বীরদামপাড়া, চিকনিরচর, কালিকাবাড়ী, কড়িয়াইল গ্রামসহ আশপাশের লোকজনকে জড়ো করে বড়ইতলা গ্রামে রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় জড়ো করা হয়। রেলযোগে আসা শত শত পাকসেনা ওইসব লোকজনের দিকে অস্ত্র তাক করে রাখেন। 

এসময় পাকবাহিনীর একটি দল বড়ইতলা ও আশপাশের গ্রামে ঢুকে নারী নিপীড়ন ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেন। এসময় কালাচান নামে এক রাজাকার গুজব ছড়ায় যে, দুই পাকসেনাকে গ্রামবাসী মেরে ফেলেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওই মানুষগুলোকে লাইনে দাঁড় করিয়ে মেশিনগানের গুলি চালিয়ে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বর্বর ও নৃশংসভাবে ৩৬৫ জনকে হত্যা করে। আরো শতাধিক মানুষ গুরুতর জখম নিয়ে বেঁচে ছিলেন কিছুদিন। 

সেদিনের পাকসেনাদের সহায়তাকারী রাজাকাররা এখনো বীরদর্পে এলাকায় রয়েছেন। স্বাধীনতার এতো বছর পরও চিহ্নিত রাজাকারদের বিচার না হওয়ায় হতাশ শহীদ স্বজন ও মুক্তিযোদ্ধারা। 

তাছাড়া বড়ইতলায় শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মিত হলেও সকল শহীদের নাম সঠিকভাবে সংরক্ষণ নেই। 

স্মৃতিসৌধের জন্যে স্থানদাতা ও শহীদ স্বজনরা জানিয়েছেন, বড়ইতলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য নির্মিত হওয়ার কথা ছিল। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক পাঠাগার হওয়ার কথা ছিল। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ স্বজনরা বড়ইতলা স্মৃতিসৌধে সকল শহীদের নাম লিপিবদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য নির্মাণ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ পরিবার ঘোষণার জোর দাবি জানান।  

কিশোরগঞ্জ সদর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূপাল নন্দি জানান, ১৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের জন্যে একটি বেদনাবিধূর দিন। সেদিনে ঘটনায় পাকসেনাদের সহায়তাকারী রাজাকারদেরকে যুদ্ধাপরাধী আইনে বিচারের দাবি জানান তিনি। 


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন