ঢাকা ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

দুর্যোগের ঝুঁকিতে রাঙ্গাবালীর আট চরের হাজারো মানুষ

কামরুল হাসান, রাঙ্গাবালী
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১৭:৪১:৫৪
দুর্যোগের ঝুঁকিতে রাঙ্গাবালীর আট চরের হাজারো মানুষ

দুর্যোগ মৌসুমে চরম ঝুঁকিতে থাকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার আটটি চরের হাজারও মানুষের জীবন। মূলভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এসব চরে জনবসতি থাকলেও নেই কোন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। নেই কোন স্কুল। 

এছাড়া, বেড়িবাঁধ না থাকায় সামান্য জোয়ারের পানিতেই ভেসে যায় চাষের মাছসহ ক্ষেতের ফসল। চরবাসীর দাবি দুর্যোগে ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। 

রাঙ্গাবালী দেশের সবচেয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা একটি উপজেলা। উত্তরে চালিতাবুনিয়া ও আগুনমুখা নদী ও চর বিশ্বাস, পশ্চিমে রামনাবাদ চ্যানেল ও কলাপাড়া উপজেলা, পূর্বে চর ফ্যাশন উপজেলার চর কুররী-মুকরী এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।

সেই রাঙ্গবালীর আটটি চর উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন। কোথাও নদী, কোথাও বা সাগর ঘেঁষে থাকলেও চরকাশেম, কলাগাছিয়া চর, চরকানকুনি, চরইমারশন, চরনজির, চরতোজাম্মেল, কাউখালী চর ও চরলতায় নেই কোন আশ্রয় কেন্দ্র। 

তাই, দুর্যোগকালীন সময়েও এখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করে মানুষ। প্রতি বছরই ছোট বড় ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে হয় চর এলাকার মানুষদের। 

এছাড়া চরগুলোর মধ্যে চরকাশেম, চরনজির ও কলাগাছিয়ার চরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধও নেই ফলে সামান্য জোয়ারেই উঠে পানি। ভেসে যায় পুকুর ও ঘেরের মাছ, ফসলসহ সহায় সম্বল।

এদিকে চরের শিশুদের জন্য কোন স্কুল না থাকায় শিক্ষার আলো থেকেও বঞ্চিত তারা। 

চরগুলোতে জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করা সংস্থাগুলোর মতে, ঝুঁকি এড়াতে  শিগগিরই টেকসই বেড়িবাঁধ এবং আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ প্রয়োজন।

তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির বলছেন, সরকারি বা নিবন্ধিত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় দীর্ঘদিন সেসব চরে নিয়মানুযায়ী আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।    

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই আটটি চরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার।


একাত্তর/এআর


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন