ঢাকা ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

মুদি দোকানদার থেকে মানবপাচার চক্রের হোতা

মহিম মিজান, একাত্তর
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২১ ২০:১২:২১ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২১ ২০:২৪:১৪
মুদি দোকানদার থেকে মানবপাচার চক্রের হোতা

ছিলেন মুদি দোকানদার। পাশাপাশি লোক পাঠাতেন মধ্যপ্রাচ্যে। পরে নিজেই তিনটি প্রতিষ্ঠান খুলে অবৈধভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মানবপাচার শুরু করেন সাইফুল ইসলাম টুটুল। 

বিদেশে নিয়ে সেই সব মানুষদের তুলে দেয়া হতো মানব পাচারকারীদের হাতে। পরে করা হতো মুক্তিপণ আদায়। এভাবে হাতিয়ে নেওয়া হয় কোটি কোটি টাকা।

টুটুলের (৩৮) বাড়ি মেহেরপুরের গাঙ্গনি উপজেলার কামন্দী গ্রামে। এইচএসসি পাস টুটুল ছিলেন মুদি দোকানদার। ঢাকায় নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন তিনি। এক পর্যায়ে অধিক অর্থ আয়ের লোভে জড়িয়ে পড়েন মানবপাচার চক্রে।

মুদি দোকান চালানোর সময়েই মানবপাচারে হাতেখড়ি হয় টুটুলের। একটি এজেন্সির মাধ্যমে গাঙ্গনির মানুষদের সৌদি আরব পাঠাতেন। 

কয়েক মাস পরই বাড্ডায় টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজ নামের তিনটি এজেন্সি খোলেন টুটুল। যার একটিরও কোন অনুমোদন ছিলো না। 

তিন প্রতিষ্ঠানের বৈধতা না থাকায়, অন্য বৈধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেকার ও শিক্ষিত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষকে বিদেশে পাচার করেন তিনি। হাতিয়ে নেন কোটি টাকা।

নিজের নিয়োগ করা দালালদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার নারী পুরুষদের উচ্চ বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতেন টুটুল। 

সৌদি আরব, জর্ডান ও লেবাননে পাঠানোর কথা বলে আদায় করতেন দুই থেকে তিন লাখ টাকা। আর অবৈধ ভাবে বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়তেন অসংখ্য মানুষ। 

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাইফুলের লোকেরা পাসপোর্ট জব্দ করে তাদের আরেকটি চক্রের হাতে তুলে দিতো। এরপর শুরু হতে মুক্তিপণ আদায়। 

সাইফুলের মাধ্যমে জর্ডানে যাওয়া আসমা বেগম নামের এক নারীর এখনও কোন খোঁজ নেই। এমন কমপক্ষে ২৫ জন ভুক্তভোগী র‍্যাবের বের কাছে অভিযোগ করেছেন। 

টুটুলের প্রতারণার কাজে অন্যতম সহযোগী মো. তৈয়ব আলী (৪৫)। চায়ের দোকানদার হলেও পরিচয় দেন স্বনামধন্য এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার হিসেবে।

মুদি দোকানদার থেকে মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা টুটুল ও সহযোগী তৈয়বসহ আট জনকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। 



একাত্তর/এআর


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন