ঢাকা ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

যে রোগে ধবধবে সাদা হন কৃষ্ণাঙ্গরাও

মনিরুজ্জামান বাবু, একাত্তর
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২১ ১৩:০০:৩২ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২১ ১৩:২৭:৩৫
যে রোগে ধবধবে সাদা হন কৃষ্ণাঙ্গরাও

আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গদের কে না চেনেন। কিন্তু সাদা চামড়ার কৃষ্ণাঙ্গ! এও কি সম্ভব? আফ্রিকার অনেক জায়গাতেই চোখে পড়বে এ ধরনের ব্যতিক্রমী মানুষ। তবে কঠিন বাস্তবতা হলো বিরল এক রোগে ভুগছেন এই মানুষরা। 

কৃষ্ণাঙ্গ হলেও ধবধবে সাদা গায়ের রঙ, চুল এমনকি চোখের পাপড়িও সাদা। কৃষ্ণাঙ্গ হলেও এসব মানুষের গায়ের রং ধবধবে সাদা। এ ধরনের ব্যতিক্রমী মানুষ হয়ত অনেকেরই চোখে পড়েছে। আসলে এটি একটি রোগ, নাম তার আলবিনিজম। এ রোগে আক্রান্তদের বলে আলবিনো। 

এ রোগের ফলে দেহে মেলানিন নামক একধরনের রঞ্জকের তৈরি ব্যহত হয়। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, প্রতি সতেরো হাজার থেকে বিশ হাজার জনে একজন আলবিনো। তবে আফ্রিকায় এই হার পাঁচ হাজার জনে একজন। 

আফ্রিকায় আলবিনোদের জন্য সবচাইতে খারাপ জায়গা হলো তানজানিয়া। কারণ দেশটির প্রতি ১৪০০ জনেই একজন আলবিনো!

যে মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আমাদের সুরক্ষা দেয়, সেই মেলানিনই প্রায় অনুপস্থিত আলবিনোদের দেহে। ৯০% আফ্রিকান আলবিনো, ৪০ বছরের বেশি বাঁচেন না। সারা পৃথিবীতে আলবিনোদের শত্রু সূর্য।

আরও পড়ুন: 'আদর্শ মা' হয়ে উঠা যে কারণে কেবলই একটি মিথ

কিন্তু আফ্রিকার আলবিনোদের অতিরিক্ত একটি শত্রু রয়েছে শিকারি। কুসংস্কারাবিষ্ট আফ্রিকায় কালোজাদুর চর্চার একটি অনুষঙ্গ হচ্ছে আলবিনোদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। গণ্ডারের শিং, হাতির দাঁতের মতো আলবিনোদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও নিষিদ্ধ বাজারে বিকোয়।

তানজানিয়ায় আলবিনোদের ডাকা হয় দিলি, যার অর্থ টাকা-পয়সা। আলবিনোদের দেহের ছোট একটি টুকরোর দামই ১০-২০ হাজার ডলার। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, লোভে পড়ে আফ্রিকার অনেক মা-বাবা নিজ সন্তানকে শিকারির কাছে বিক্রি করেন।

এই রোগের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি আর নিরাপত্তা শঙ্কাই কেবল নয়, আফ্রিকান সমাজে বাঁকা চোখেও দেখা হয় এই আলবিনোদের। তবে কিছুটা স্বস্তির খবর, অনিরাপদ এলাকাগুলো থেকে আলবিনো পরিবারদের শহরে পুনর্বাসনের কাজ করছে তানজানিয়ার সরকার। অনেক এলাকায় আবার গড়ে উঠেছে আলবিনোদের আশ্রম। 


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন