ঢাকা ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

বাংলাদেশের বন্ধু জর্জ হ্যারিসন

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২১ ১২:৫৯:৩৫ আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২১ ১৩:০৩:১৪
বাংলাদেশের বন্ধু জর্জ হ্যারিসন

সম্পর্কটা বন্ধুত্বের, আত্মার। বাংলাদেশের প্রতি অনুভূতি মেশানো হৃদয়। কঠিন বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর মানুষ জর্জ হ্যারিসন। আজ জর্জ হ্যারিসনের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯৭১ সালে যখন দেশে যুদ্ধ চলছিল, তখন জর্জ হ্যারিসন তার বন্ধু রবি শংকর এর পরামর্শে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন এলাকায় সঙ্গীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। মূলত এই আয়োজনটি ছিলো মুক্তিযুদ্ধের সময় তহবিল সংগ্রহের জন্য এবং এই সঙ্গীত অনুষ্ঠানটির নাম দেওয়া হয়েছিলো ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। 

আর তখন মঞ্চে তাঁর গাওয়া ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ এই গানটি আলোড়ন তুলেছিলো গোটা বিশ্বে। কনসার্টে তার নিজের লেখা বাংলাদেশ পরিবেশন করে কনসার্টের টিকেট, সিডি ও ডিভিডি হতে প্রাপ্ত অর্থ ইউনিসেফের ফান্ডে জমা দেন তখন। ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট। দিনটি ছিল রবিবার। ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকের অনুরোধেই এই কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন ব্রিটিশ সঙ্গীত শিল্পী জর্জ হ্যারিসন।

আর 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' ছিলো পৃথিবীর ইতিহাসে একটি অন্যতম সফল আয়োজন। হ্যারিসন ছিলেন বিখ্যাত ব্যান্ড ‘দ্য বিটলস’-এর চার সদস্যের একজন। জর্জ হ্যারিসনের বিখ্যাত গানের মধ্যে 'মাই সুইট লর্ড', 'গিভ মি পিস অন আর্থ', 'গট মাই মাইন্ড সেট অন ইউ'। 

কনসার্টে জর্জ হ্যারিসনের লেখা, সুর করা ও গাওয়া 'বাংলাদেশ' গানটি মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল। গানের শুরুটা ছিল 'আমার বন্ধু এসেছিল…'। এই বন্ধু বলতে তিনি রবি শংকরকে বুঝিয়েছেন। পরে গানের প্রতিটি লাইনে তিনি অসাধারণ কথামালায় তুলে ধরেছেন নিপীড়িত মানুষের কথা। ছিল বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গভীর এক আবেদন।

'বাংলাদেশ' গানটি ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার লস এ্যাঞ্জেলেস এর 'দ্য রেকর্ড প্লাট' নামের বিখ্যাত স্টুডিওতে ধারণ করা হয়েছিল। ওই মাসেরই ২৮ তারিখ অর্থ্যাৎ 'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' এর ঠিক তিন দিন আগে গানটি রিলিজ করা হয়। জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে এই গানটির সহ প্রযোজক ছিলেন আমেরিকান বিখ্যাত প্রযোজক, সংগীতশিল্পী ও গীতিকার হার্ভি ফিলিপ স্পেক্টর।

সেই কনসার্টের ব্যাপকতা এতটাই ছিল যে শত বছরের অন্যতম সেরা আয়োজনের তকমাও জুড়ে আছে সাথে।

জর্জ হ্যারিসনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের লিভারপুলে। সঙ্গীত তাঁকে নিয়ে গেছে গোটা দুনিয়ায়। তবে জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৬৬ সালে ব্রিটিশ মডেল ও ফটোগ্রাফার প্যাট্রিসিয়া অ্যান বয়েডকে বিয়ে করেন জর্জ হ্যারিসন। এরপর এক দশকেরও বেশি সময়ের দাম্পত্য জীবন শেষ হয় ১৯৭৭ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে। এরপর ২০০১ সালের ২৯ নভেম্বর ৫৮ বছর বয়সে ফুসফুসের ক্যান্সারে মারা যান তিনি। 

যাদের কোনো দেশ থাকে না। গোটা পৃথিবীটাই যার দেশ তিনি জর্জ হ্যারিসন। যেখানে মানুষ, যেখানে মানবতা, সেখানেই তার মতো নিবেদিত প্রাণ। সঙ্গীতে দুনিয়া কাঁপিয়েছেন। পৃথিবী তাকে মনে রাখবে। কিন্তু গভীর ভালোবাসায় মানুষটিকে মনে রাখবে বাংলাদেশের মানুষ।


একাত্তর/ এনএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন