ঢাকা ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

‘ধর্ষকের’ কাছে ক্ষমা চাইলেন মার্কিন লেখক সেবোল্ড

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২১ ১৩:৪৬:২১ আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩:৩৮:৫৩
‘ধর্ষকের’ কাছে ক্ষমা চাইলেন মার্কিন লেখক সেবোল্ড

প্রায় চার দশক পর ধর্ষণের অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়া এক ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমেরিকার জনপ্রিয় লেখক অ্যালিস সেবোল্ড।

‘দ্য লাভলি বোনস’ গ্রন্থের লেখক এই লেখক মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) তিনি এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, যিনি তাকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৬ বছর জেল খেটেছেন।

জেল খেটে বের হলেও একজন যৌন অপরাধীর তালিকায় ব্যক্তিটির নাম ছিলো। ৪০ বছর পর প্রমাণ হয় তিনি ধর্ষণ করেননি। গেল সপ্তাহেই নির্দোষ প্রমাণিত হন তিনি।

এরপরই লেখক সেবোল্ড সেই ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন নিজের ভুলের জন্য। তিনি বলেছেন, নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা হচ্ছে তার।

ঘটনাটি ১৯৮১ সালের। তখন সেবোল্ড নিউইয়র্কের সিরাকুস ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। সেই সময়ে তিনি সেখানে যৌন হয়রানির শিকার হন।

এই ঘটনায় তিনি ধর্ষণের মামলা করেন। মামলার বর্ণনায় তিনি এক কৃষাঙ্গ ব্যক্তিকে সন্দেহ করেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী গ্রেপ্তার হন অ্যান্টনি ব্রডওয়াটার নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ।

সন্দেহভাজন ধর্ষণকারী হিসাবে ব্রডওয়াটারকে ঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারলেও, সেবোল্ডের বয়ান ও ঘটনাস্থলে পাওয়া চুলকে আলামত হিসাবে নিয়ে শুরু হয় বিচার।

বিচারে ব্রডওয়াটারের ১৬ বছর জেল সাজা হয়। ১৯৯৮ সালে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও, একজন ধর্ষক হিসাবে তার নাম অপরাধীর তালিকায় থেকে যায়।

এরপর গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে ব্রডওয়াটারের দোষী সাব্যস্ত হওয়া মামলার পুনঃপরীক্ষায় বিচার কাজে কাজে গুরুতর ত্রুটি পাওয় যায়। এবং মামলার অভিযোগপত্র বাতিল করা হয়।

শুরু থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করতেন ৬১ বছরের ব্রডওয়াটার। ধর্ষণের অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়ার পর তিনি কেঁদে ফেলেন। জানান, একটি নিরপরাধ জীবন পেলেন তিনি।

আরও পড়ুন: দ. কোরিয়ায় বাংলাদেশি সহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

এই ঘটনার আটদিন পর লেখক সেবোল্ড এক বিবৃতিতে ব্রডওয়াটারের কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ঘটনার ভয়াবহতা অনুধাবনের পর মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে তার সময় লেগেছে।

তিনি লেখন, ‘আমি বলতে চাই যে আমি অ্যান্টনি ব্রডওয়াটারের কাছে সত্যিই দুঃখিত এবং আপনি যা করেছেন তাতে আমি গভীরভাবে অনুশোচনা করছি’।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি সবচেয়ে বেশি দুঃখিত এই ভেবে, আপনি যে জীবন কাটাতে পারতেন তা আপনার কাছ থেকে অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমি জানি আপনার সাথে যা ঘটেছে তা কখনো ফেরানো যাবে না, কখনই সেটা সম্ভব হবে না।’

৫৮ বছরের এই লেখক আরো বলেন, ব্রডওয়াটার অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তার সঙ্গে যা করা হয়েছিলো সেজন্য আমি চিরকাল দুঃখিত হয়ে থাকবো।