ঢাকা ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯

আলোক স্বল্পতায় ৫৭ ওভারেই শেষ ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:১০:৩৩ আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ২১:৪৬:১৩
আলোক স্বল্পতায় ৫৭ ওভারেই শেষ ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন

ম্যাচের শুরুতেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে  আজহার আলি ও বাবর আজমের ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তানি।

তবে দ্বিতীয় সেশন শেষ হওয়ার পর হালকা বৃষ্টি, কুয়াশা ও ঘনকালো মেঘের কারণে উদ্ভূত আলোর স্বল্পতা আর খেলাই শুরু করা যায়নি। যে কারণে, খেলা বন্ধ করে দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সেই খেলা আর শুরুই করা যায়নি এবং দিনের খেলা শেষ করে দিতে বাধ্য হন ম্যাচ রেফারি।

৫৭ ওভারে প্রথম দিনের খেলা বন্ধ হওয়ার সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেট হারিয়ে ১৬১। ৯৯ বলে ৬০ রানে বাবর আজম এবং ১১২ বল খেলে ৩৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন আজহার আলি।

এর আগে, মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান।

চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ ছিলেন আজহার ও বাবর। ঢাকায় ঘুরে দাঁড়িয়ে এরই মধ্যে ফিফটি করে ফেলেছেন বাবর। তিনি অপরাজিত রয়েছেন ৬০ রানে। একপ্রান্ত আগলে রাখা ব্যাটিংয়ে আজহার করেছেন ৩৬ রান।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ম্যাচের মতো এবারও দেখেশুনে ভালো শুরু করেন দুই ওপেনার আবিদ ও শফিক।

সিরিজে টানা তৃতীয় ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি গড়ে ফেলে পাকিস্তানের দুই ওপেনার। উইকেটের সম্ভাবনা জেগেছিল সাকিবের করা ১৬তম ওভারে। টার্ন করে বাইরে বেরিয়ে যাবে ভেবেছিলেন পাকিস্তানের ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক।

কিন্তু নিখুঁত আর্মার সোজা ঢুকে যায় ভেতরে, আঘাত হানে শফিকের প্যাডে। কিন্তু সাকিবের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দেননি। অধিনায়ক মুমিনুল হককে রাজি করাতে এক সেকেন্ডও লাগেনি সাকিবের, সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে নেন রিভিউ।

থার্ড আম্পায়ারের রিপ্লে'তে দেখা যায় একদম অফস্ট্যাম্প ঘেঁষে চলে যাচ্ছে বলটি। ফলে অল্পের জন্য বেঁচে যান ডানহাতি শফিক। কিন্তু বাঁচতে পারেননি তাইজুলের করা ১৯তম ওভারে। তাইজুলের বলে পুরোপুরি বোকা বনে গিয়ে বোল্ড হয়ে গেছেন আগের ম্যাচে জোড়া ফিফটি করা শফিক। তিনি করেন ৫০ বল থেকে ২৫ রান।

শফিকের বিদায়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ৫৯ রানে। এরপর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি আবিদও। ইনিংসের ২৫তম ওভারে তাইজুলের বলে কাট শট খেলতে গিয়ে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল আঘাত হানে স্ট্যাম্পে। ফলে ৩৯ রানেই থেমে যায় দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আবিদের ইনিংস।

প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগে আজহারের বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন করেছিলেন সাকিব। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। রিপ্লেতে দেখা যায় বল যখন ব্যাট অতিক্রম করছিল, তখন খুবই সূক্ষ্ম দাগ আছে আল্ট্রাএজে।

কিন্তু মাঠের আম্পায়ারের নট আউটের সিদ্ধান্তকে বদলে দিতে তা যথেষ্ঠ ছিল না বলে মনে করেছেন টিভি আম্পায়ার গাজী সোহেল। ফলে বেঁচে যান আজহার। নির্বিঘ্নেই প্রথম সেশনের বাকিটা কাটিয়ে দেন আজহার-বাবর। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৭৮ রান।

আরও পড়ুন: অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, ৯ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিস্কৃত

মধ্যাহ্ন বিরতির পর ফিরে আবারও একটি সুযোগ তৈরি করেন সাকিব। এবার তার বলে এগিয়ে মেরেছিলেন বাবর। কিন্তু সীমানা ছাড়া করতে পারেননি। উল্টো লংঅফে খালেদের সামনে সুযোগ এসেছিল সেটি তালুবন্দী করার। পেছনে দৌড়ে লাফ দিয়েও সেটি ধরতে পারেননি তিনি।

এর বাইরে তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি পাকিস্তানের দুই ব্যাটারকে। তবে উইকেট বেশ কিছু বলের বাউন্স ছিল অসমান। এবাদতের শর্ট লেন্থে করা বলগুলোও বুক সম্মান উচ্চতায় ওঠেনি। অন্যদিকে স্পিনারদের কিছু ডেলিভারি আবার বাড়তি লাফিয়েছে।

সবকিছু সামনেই দ্বিতীয় সেশনে ২৬ ওভার থেকে ৮৩ রান তুলেছেন আজহার ও বাবর। ইনিংসের ৫০তম ওভারে নিজের ফিফটি পূরণ করেন বাবর। মাঝে বৃষ্টির বাধায় বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল খেলা। তাতেও পাকিস্তানি ব্যাটারদের মনোযোগে ব্যত্যয় ঘটেনি।


একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

৩ দিন ১৪ ঘন্টা আগে