ঢাকা ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

খালেদা জিয়া শারীরিক অবস্থার আবারো অবনতি: ফখরুল

শফিক আহমেদ, একাত্তর
প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২১:৩১:৩৭ আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২২:৫৫:৫৯
খালেদা জিয়া শারীরিক অবস্থার আবারো অবনতি: ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আবারো অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে তিনি জানান, খালেদাকে বিদেশে নেয়ার দাবিতে ২২ ডিসেম্বর থেকে জেলায় জেলায় সমাবেশ করবে বিএনপি। 

গেলো এক মাস তিন দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। 

এই সময়ে তাঁর হার্ট লিভার ফুসফুস ও কিডনীর নানা রকম জটিলতা তৈরি হয়েছে। সবশেষ মঙ্গলবার তার রক্তে হিমোগ্লোবিন ও প্লাটিলেটের মাত্রাও কমতে শুরু করেছে। 

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ম্যাডামের শরীর আবারও একটু খারাপ হয়েছে। বিভিন্ন প্যারামিটার নিচের দিকে। হিমোগ্লোবিন কমের দিকে। রক্তক্ষরণ এই মুহূর্তে বন্ধ আছে’।

আরও পড়ুন: ৫০ বছর পর বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাচ্ছেন বেদনা দত্ত

তিনি জানান খালেদা জিয়ার এমন গুরুতর অবস্থায়ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে দেয়ার দাবি সরকার আমলে নিচ্ছে না। 

তাই দাবি আদায়ে ২২ ডিসেম্বর থেকে ৩২টি জেলায় সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে ২০ ডিসেম্বর থেকে জেলাপর্যায়ে এ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

২২, ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর বিভিন্ন বিভাগের জেলা সদরে প্রতিদিন ৬টি এবং ২৮ ও ৩০ ডিসেম্বর প্রতিদিন ৭টি করে সমাবেশ হবে।

প্রথম দিন টাঙ্গাইল, যশোর, দিনাজপুর, বগুড়া, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সমাবেশ হবে। এসব সমাবেশ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা সমন্বয় করবেন।

কর্মসূচি ঘোষণা ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে, র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত বিব্রতকর ও উদ্বেগজনক। তবে তা ছিল অবশ্যম্ভাবী এবং সম্পূর্ণ দায় আওয়ামী লীগের।

তিনি আরো বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জাতিসংঘের শান্তি মিশনকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে প্রতিরক্ষা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: 'অবিশ্বাস্য গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে ওমিক্রন'

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি মনে করে র‌্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সব দায় সরকারকেই নিতে হবে। বাংলাদেশে বিনা ভোটে নির্বাচনের সংস্কৃতি, দিনের ভোট রাতে লুটের সংস্কৃতি অব্যাহত রাখার জন্য সরকারই র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নগ্নভাবে ব্যবহার করেছে। তাই র‍্যাবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের দায় সরকারের। সুতরাং র‍্যাবের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা, তা এক অর্থে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধেই নিষেধাজ্ঞার শামিল। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য র‍্যাবকে বিভিন্ন আইনবিরোধী সংস্কৃতির অংশ হতে বাধ্য করেছে। অতএব রাজনৈতিক সরকারের দায় দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া যাবে না।

অবশ্য এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, যারা ইতিমধ্যেই সরকারের এ ধরনের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য নিজেদের অংশীদারি পরিণত করে নানা অপরাধের সংস্কৃতি চালু করতে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশ, সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীগুলোর কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন