ঢাকা ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ১৬ মাঘ ১৪২৮

কোভ্যাক্সের টিকা যেভাবে আসছে বাংলাদেশে, যারা পাচ্ছেন

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী ২০২২ ২০:১১:২২ আপডেট: ১৪ জানুয়ারী ২০২২ ২০:৫০:৫৯
কোভ্যাক্সের টিকা যেভাবে আসছে বাংলাদেশে, যারা পাচ্ছেন

বিশ্বের সব মানুষের সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক পাওয়া নিশ্চিত করতে গঠন করা হয়েছে কোভ্যাক্স প্ল্যাটফর্ম। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু দেশ। একই সাথে অর্থ দিয়ে প্রকল্প এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছে গুগল, টিকটক, কোকাকোলার মতো অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। আর প্রকল্পের আওতায় সহায়তা পাচ্ছে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ব্রাজিলসহ ১৪৪টি দেশ।

গত বছরের শুরুতে বিভিন্ন দেশে টিকা বণ্টনের যে তালিকা কোভ্যাক্স প্রকাশ করেছিল, তাতে ২০২১ সালের জুনের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ ১ কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার ডোজ কোভিড-১৯ টিকা পাওয়ার কথা ছিলো।


এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে কয়েক ধাপে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৯ হাজার টিকা দিয়েছে কোভ্যাক্স। এর মধ্যে ২৩ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা আজ (১৪ জানুয়ারি) আসার কথা রয়েছে।

কোভ্যাক্স প্ল্যাটফর্মের আওতায় বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে টিকা পায় আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটির রাজধানী আক্রায় পৌঁছেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত টিকার ৬ লাখ ডোজ।

মূলত মহামারির তীব্রতা কমিয়ে এনে দেশের মোট জনসংখ্যার অন্তত ২০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনতে কোভ্যাক্স কাজ করছে। কোভ্যাক্সের প্রতিষ্ঠাতারা আগেভাগেই পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন। ২০০৯ সালে যখন ‘সোয়াইন ফ্লু’ ছড়িয়ে পড়ে তখন বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন পৌঁছানো বেশ কঠিন হয়েছিল। সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেজন্য সংকল্পবদ্ধ ছিলেন কোভ্যাক্সের প্রতিষ্ঠাতারা। তারা বেশ দ্রুততার সঙ্গে অনেক দেশকে এর সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছেন।

তাদের মত ছিলো, কোনো অঞ্চলে ভ্যাকসিন না দেয়া হলে সেখানে ভাইরাস বেশি ছড়াতে পারে, ফলে নতুন ধরনও সৃষ্টি হতে পারে।


সর্বশেষ তথ্যনুসারে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশের স্কুলগুলোতে চলমান টিকাদান কার্যক্রমে স্কুল শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ মানুষও টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজে পাচ্ছেন ফাইজারের টিকা। তবে বুস্টার ডোজ হিসেবে আপাতত ফাইজারের টিকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এখন বুস্টার ডোজ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে মডার্না।

আরও পড়ুন: ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ফাইজার টিকা শতভাগ কার্যকর

বর্তমানে ফাইজারের ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮৭২ ডোজ টিকা মজুদ আছে। এছাড়া দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।


গত ২৮ ডিসেম্বর সারাদেশে করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং যারা কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে আছেন, তাদের করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছে। টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ছয় মাস পরে তারা বুস্টার ডোজ বা তৃতীয় ডোজ নিতে পারবেন।

যে আগে যে হাসপাতাল থেকে দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন, সেই হাসপাতাল থেকে তার মোবাইলে বুস্টার ডোজের তারিখ জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। সেই কেন্দ্রে নির্ধারিত দিনে গিয়ে তৃতীয় ডোজ নিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: করোনায় একদিনে শনাক্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার, মৃত্যু ছয়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বুধবার (১২ জানুয়ারি) পর্যন্ত সারা দেশে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৫২৬ জনকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৬২ জন পেয়েছেন ফাইজারের টিকা।


এছাড়া ২ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩০ জন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং ২২ হাজার ৭৩৪ জন মডার্নার টিকা পেয়েছেন বুস্টার ডোজ হিসেবে।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন