ঢাকা ১৭ আগষ্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯

হারিয়ে যেতে বসা শিল্প মহিষের শিংয়ের অলঙ্কার

নিজস্ব প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ১৩:৪২:১৬ আপডেট: ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ১৩:৪৭:২৯
হারিয়ে যেতে বসা শিল্প মহিষের শিংয়ের অলঙ্কার

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার একটি প্রাচীন গ্রামের নাম নন্দেজশ্বর কারবারি পাড়া। এখানে প্রায় ৫০ বছর ধরে পারিবারিক পরম্পরায় হাতির দাঁত থেকে নারীদের হাতের বালা, কানের দুল, আংটি, নেকলেসসহ নানা ধরনের অলংকার বানিয়ে আসছে বেশ কয়েকটি পরিবার। 

তবে কালের বিবর্তনে হাতি এখন হয়ে গেছে দুর্লভ প্রাণী। হাতির দাঁত দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ায় তাই এখন মহিষের শিং দিয়েই এই প্রাচীন হস্তশিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এই গ্রামের গুটিকয়েক বাসিন্দা। 

তবে পর্যাপ্ত চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় এই অলঙ্কারগুলো বাজারে গিয়ে বিক্রি করা হয় না। অর্ডারের ভিত্তিতে বানিয়ে প্রতি জোড়া বালা এক হাজার থেকে ১২শ' টাকায় বিক্রি করা হয়। আর প্রতিটি আংটি ও প্রতি জোড়া কানের দুলের দাম গড়ে তিনশ' থেকে চারশ' টাকা। 


প্রবীণ শিল্পী পূর্ণ বিকাশ চাকমা প্রায় ৪০ বছর ধরে এই শিল্পের সাথে যুক্ত আছেন। তিনি জানান, মূলত বাবা ও দাদুর কাছ থেকেই হাতির দাঁত দিয়ে অলঙ্কার বানানো শিখেছেন তিনি। 

আরও পড়ুন: সুচিত্রা সেনের প্রয়াণদিবসে বাড়ি সংস্কারের দাবি

ছেলে পিন্টু চাকমাও তার কাছ থেকে এই কাজ শিখেছেন। একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করলেও ছুটির সময় বাবাকে এই কাজে সাহায্য করেন তিনি। 

একই পাড়ার রিপন জ্যোতি চাকমা, দিপ্তীলিকা চাকমা ও মিসেল চাকমা এই অলঙ্কার বানিয়ে সংসার চালান। বর্তমানে পাড়ার ছয়টি পরিবার এই শিল্পের সাথে যুক্ত।

হারিয়ে যেতে বসা এই হস্তশিল্পের শিল্পীদের সহায়তার আহবান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কাশেম বলেন, মহিষের শিং থেকে অলঙ্কার তৈরি একটি ব্যতিক্রমী শিল্প। এর কারিগররা সহযোগিতা চাইলে তাদেরকে উপজেলা পরিষদ থেকে সহায়তা করা হবে। 


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৫ দিন আগে