ঢাকা ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯

করোনা নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্কুলে অনুষ্ঠান!

ইশতিয়াক ইমন, একাত্তর
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী ২০২২ ১৯:০৮:৪৪ আপডেট: ২৩ জানুয়ারী ২০২২ ১১:৪৭:১১
করোনা নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্কুলে অনুষ্ঠান!

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দু’সপ্তাহের জন্য সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। তবে সরকারের এই আদেশ অমান্য করে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করেছে হয়েছে রাজধানীর শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

একই সাথে অভিভাবক ও শিক্ষকদের হাড়িভাঙ্গা ও বালিশ খেলার আয়োজনও করা হয়। শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান শেষ হয় বেলা সাড়ে ১১টায়।

অভিভাবকরা বলেন, করোনা সংক্রমণে কারণে সরকার যেখানে স্কুলে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে এমনকি গুরুত্বপূর্ণ অনেক পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

সেখানে কলেজ অধ্যক্ষের এমন স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কাছে অসহায় তারা। বাধ্য হন সন্তানকে নিয়ে কলেজে আসতে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের নোটিশ দেয়া হয়।

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, স্কুলের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বন্ধ করে না রাখলে সেই ফুটেজেই অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকসহ কয়েকশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। একাত্তরের হাতেও অনুষ্ঠানের বেশ কিছু ভিডিও এবং স্থির চিত্র আছে।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদ আলী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের কথা স্বীকার করে বলেন, কিছু পুরস্কার দেয়া বাকি ছিলো সেগুলোও দেয়া হয়েছে।

তিনি করেন, বড় অনুষ্ঠান করা হয়নি। এক্ষেত্রে সরকারের দেয়া আদেশ অমান্য হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন জন শিক্ষক বলেছেন, আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এই অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের বালিশ খেলার পাশাপাশি হাড়িভাঙ্গা খেলাও হয়েছে।

যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের অভিভাবকসহ উপস্থিত থাকলে নোটিশ দেয়া হয়েছিলো। সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলেও অধ্যক্ষ নিজ দায়িত্বে এই অনুষ্ঠান চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।

কয়েকজন শিক্ষক এনিয়ে আপত্তি জানালে অধ্যক্ষ বলেন, মন্ত্রণালয় তিনি পকেটে নিয়ে ঘোরেন তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। তাই চিন্তার কিছু নেই। এই শিক্ষকরা আরো জানান, অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবার কারো কোন সুযোগ নেই।

তবে শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত শিক্ষক নাজিম উদ্দিন মোল্লাহ এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা প্রথমে অস্বীকার করেন।

পরে প্রমাণ থাকার কথা বলা হলে, তিনি স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীরা আসায় তাদেরকে তারা পুরস্কার দিয়েছেন, কাউকে ডেকে আনেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তাদের স্কুলে যেতে হয়েছে অভিভাবকসহ। যারা পুরস্কার পেয়েছে তাদের স্কুলে যাওয়া ছিলো বাধ্যতামূলক।

কারণ স্কুলে না গেলে, কথায় কথায় বহিষ্কারসহ নানা ধরনের হয়রানি করে কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদ আলী।

এমন অনুষ্ঠান আয়োজনকে সরকারের আদেশ অমান্য করার সামিল বলে মন্তব্য করেছেন, মাউশি’র ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ঘটনা সত্য হয়ে থাকলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। করোনা সংক্রমণের উচ্চমাত্রার এই সময়ে সরকারের আদেশ জারি করার পরও এমন অনুষ্ঠান আয়োজন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষককে নিয়ে সিঙ্গাপুর ভ্রমণে যাওয়ার কু-প্রস্তাব দেয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া অভিযোগ এখনো তদন্ত করছে মাউশি।

আরও পড়ুন: দৈনিক মৃত্যু বাড়ছে, পরীক্ষা কমায় শনাক্তও কম

গণমাধ্যমে অধ্যক্ষের চারিত্রিক বিষয় নিয়ে কথা বলায় এক কলেজ শিক্ষার্থীকে ১৫ দিন কলেজে আসতে দেয়া হয়নি। একই সঙ্গে সেই শিক্ষার্থীকে গণমাধ্যমে কথা বলায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।

অভিভাবকরা বলছেন, স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে অধ্যক্ষের অপকর্মের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলেন তাদেরকেই নানা ভাবে হয়রানি করেন তিনি।

মাউশিতে বারবার অভিযোগ দেয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলেও অভিযোগ শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের।

একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

২ দিন ১ ঘন্টা আগে