ঢাকা ০৪ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯

প্রশ্নফাঁসে চক্রে সরকারি কর্মকর্তা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান

মহিম মিজান, একাত্তর
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী ২০২২ ২১:২৯:০৫
প্রশ্নফাঁসে চক্রে সরকারি কর্মকর্তা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান

পরীক্ষা শুরুর দুই মিনিটের মধ্যেই প্রশ্ন এবং ১৭ মিনিটের মধ্যে সব উত্তর ডিজিটাল ডিভাইসে চলে যায় পরীক্ষার্থীর কাছে। এমন তথ্যে গোয়েন্দারা আগেই ফাঁদ পেতে ছিলেন।

সেই ফাঁদে ফয়দাও মিলেছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহকারী এমন চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দারা বলছেন, এর আগেও বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্ন সরবরাহ করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। 

৫৫০টি পদে সরকারি অডিট বিভাগে নিয়োগের এমসিকিউ পরীক্ষা হয় শুক্রবার। এই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হতে পারে, এমন তথ্য পেয়ে আগেই নজরদারি বাড়ায় গোয়েন্দা পুলিশ।

এর ভিত্তিতে কাকরাইলের একটি হোটেল থেকে দুই চাকরি প্রার্থী পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাদের দেয়া তথ্যে মিরপুরের সেনপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আরও চার জনকে।

আর বিজি প্রেস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী এবং অন্যতম পরিকল্পনাকারী বগুড়ার ধুপচাঁচিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরীন রুপাকে ডিবি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হিসাব মহা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের (সিজিএ) বরখাস্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আজাদ নোমান সিদ্দিকী ও রয়েছেন।

এছাড়া অন্যান্যরা হলেন- মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ছয়টি ইয়ার ডিভাইস, মাস্টার কার্ড, ছয়টি মোবাইল সিম হোল্ডার, পাঁচটি ব্যাংকের চেক, সাতটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ১০টি স্মার্ট ফোন, ছয়টি বাটন মোবাইল, ১৮টি প্রবেশপত্র এবং ফাঁস হওয়া তিন সেট প্রশ্নপত্র জব্দ করা হয়।

শনিবার, রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, চক্রটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রশ্ন ফাঁস করতো।

প্রথমে অ্যাপসে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা হল থেকে প্রশ্ন ফাঁস করা হয়। পরে বাইরে থেকে প্রশ্নের উত্তর স্মার্ট ওয়াচ, ইয়ার ডিভাইস ও ক্ষুদে বার্তায় পাঠানো হয়।

এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরো বলেছেন, চক্রটি ২০১৩ সাল থেকে এই কাজ করে আসছিলো। চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন সময় সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলো।

আরও পড়ুন: রাতের আধাঁরে মাটিতে মিলিয়ে যাচ্ছে পাহাড়

গ্রেপ্তারদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান আজাদ, নাহিদ হাসান, আল আমিন প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ২০১৩, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং উত্তর সরবরাহ করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে এই চক্রের সদস্যরা।

একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

২ দিন ২ ঘন্টা আগে