ঢাকা ০৪ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯

২০ বছর পর ছদ্মবেশে থাকা ফাঁসির আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী ২০২২ ১৮:২৩:২০ আপডেট: ২৮ জানুয়ারী ২০২২ ১৮:২৪:৪৬
২০ বছর পর ছদ্মবেশে থাকা ফাঁসির আসামি গ্রেপ্তার

কখনো ট্রলারের মাঝি, কখনো মাজারের বাবুর্চি। কখনো বা বাসার দারোয়ান হিসেবে কাজ করতেন হত্যা মামলার আসামি সৈয়দ আহমেদ। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার এক ব্যবসায়ীকে হত্যার পর থেকে গ্রেপ্তার ও সাজা এড়াতে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পালিয়ে বেড়ালেও শেষ রক্ষা হয়নি তার।

২০ বছর পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী জানে আলম হত্যা মামলার আসামি সৈয়দ আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) নগরের আকবরশাহ থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সৈয়দ আহমেদের গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত ইয়াকুব মিয়া।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের ৩০ মার্চ আদালতে স্বাক্ষী দেওয়ার সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে স্থানীয় সৈয়দ বাহিনীর লোকজন জানে আলমকে তার এক বছরের সন্তানের সামনে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় জানে আলমের বড় ছেলে মো. তজবিরুল আলম বাদি হয়ে লোহাগাড়া থানায় ২১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই সৈয়দ আহমেদসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, আটজনকে যাবজ্জীবন দেন আদালত। পরে আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করলে সেখানে সৈয়দ আহমেদসহ ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আদালত।

র‌্যাব আরও জানায়, ব্যবসায়ী জানে আলমকে হত্যার পর চার থেকে পাঁচ বছর সৈয়দ আহমেদ তার পরিবার এবং আত্মীয়স্বজন ছেড়ে বাঁশখালী, আনোয়ারা, কতুবদিয়ায় ও পেকুয়ায়ার সাগর উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি সীতাকুণ্ড এলাকায় উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করেন।

এ বিষয়ে র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, পালিয়ে থাকা অবস্থায় আসামি বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় ছিলেন। তিনি আরও কোনো হত্যার সাথে জড়িত আছেন কিনা তাও খতিয়ে দেখবে র‍্যাব।

আরও পড়ুন: ঘুরতে গিয়ে ট্রাকচাপায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু

তিনি আরও বলেন, খুনের পর ভিন্ন নামে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র করিয়ে আকবর শাহ এলাকায় দারোয়ানের চাকরি নেন আহমদ। অনেক খোঁজাখুজির পর র‍্যাব তার সন্ধান পায়।

উল্লেখ্য, জানে আলম হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জন আসামির মধ্যে দুইজন কারাগারে রয়েছেন, তিনজন মারা গেছেন এবং বাকিরা এখনো পলাতক।


একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

২ দিন ২ ঘন্টা আগে