ঢাকা ০৪ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯

৬৭ ব্যক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে রেমিট্যান্স পুরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ১২ মে ২০২২ ১৯:১৫:২৩
৬৭ ব্যক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে রেমিট্যান্স পুরস্কার

করোনার দুই বছরে বিশ্ব যখন টালমাটাল তখনও বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে প্রবাসীদের আয়। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারেরও বেশি। তবে তা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১৬ শতাংশেরও বেশি।

রেমিট্যান্সের এই অর্থ বৈধ চ্যানেলে সহজ, নিশ্চিত ও দ্রুততম সময়ে উপকারভোগীদের নিকট পৌঁছে দিতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও মানি রেমিটার প্রতিষ্ঠানসমূহ কাজ করে যাচ্ছে। 

বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স প্রেরণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট এর আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১২ মে) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ এর অডিটোরিয়ামে "বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৯-২০ অনুষ্ঠানটি আয়োজন কর হয়।  

এ বছর যুগপৎভাবে ২০১৯ এবং ২০২০ সালের জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে সাধারণ পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে ৫৩টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ রেমিট্যাপ আহরণকারী এক্সডের হাউস ও ব্যাংক ক্যাটাগরিতে ১৪টি, অর্থাৎ মোট ৬৭টি সম্মাননা পুরস্কারের মাধ্যমে তাদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। করোনাভাইরাসের চলমান সংক্রমণের কারণে আরোলিত বিধিনিষেধের ফলে ২০১৯ ২০২০ সালে রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব ফজলে কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব জনাব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জনাব আবু ফরাহ মোঃ নাছের।

বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ ও ২০ অনুষ্ঠানে ব্যাংকাররা জানালেন, করোনার বিধি নিষেধ উঠে যাওয়ায় হুন্ডির প্রবণতা বেড়েছে। খোলাবাজারে ডলারের বেশি দাম পাওয়ায় অনেকেই বেছে নিচ্ছেন অবৈধ পথ। তাই এক দেশ এক ডলারের রেট বেধে দেয়ার দাবি তাদের।

তবে হুন্ডি বাড়ছে এমন শংকার সাথে দ্বিমত প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ব্যাংক গর্ভনর। তিনি বলেন বিশ্বব্যাপি পণ্যমূল্যের অস্থিরতায় বাণিজ্য ঘাটতি বোড়েছে। এখন সর্বোচ্চ প্রাধান্য বৈধপথে প্রবাসী আয় আহরণ। 

তবে দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে তা স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আশা করেন, পাচার করা সকল অর্থই দেশে ফিরবে। 

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উচ্চ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল এর সকল আর্থ-সামাজিক সূচকে উন্নতিসহ দারিদ্র্য দূরীকরণে সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিগণ রেমিটারদের জন্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকল্পে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনার প্রতি আলোকপাত করেন। সম্মাননাপ্রাপ্ত অতিথিগণ ভবিষ্যতেও দেশের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে সদা সচেতন থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্যে, বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স প্রেরণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২০১৪ সাল থেকে সর্বোচ্চ রেমিট্যাপ প্রেরণকারী ব্যক্তি ও সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে “বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী হিসেবে মোট ১৯৯ জনতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।


একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

২ দিন ২ ঘন্টা আগে