ঢাকা ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯

নির্দলীয় সরকার ছাড়া কারো সঙ্গে আলোচনা নয়: ফখরুল

শফিক আহমেদ, একাত্তর
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২২ ১৯:৩৮:৪৭ আপডেট: ১৪ মে ২০২২ ২০:৫৮:৪৮
 নির্দলীয় সরকার ছাড়া কারো সঙ্গে আলোচনা নয়: ফখরুল

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বিএনপি আর কারো সঙ্গেই আলোচনায় যাবে না বলে আবারও জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর এই দাবি মানা না হলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই তা আদায়ের হুশিয়ারিও দিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

শনিবার (১৪ মে) দিনাজপুর ও ঢাকায় আলাদা কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিবসহ ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা এসব কথা জানান। আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপি অবস্থান তুলে ধরে তার আরও জানান, বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। 

শনিবার দুপুরে দিনাজপুর শহরের জেল রোড ইন্সটিটিউটের মাঠে জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল। অন্যদিকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

সম্মেলনে ফখরুল বলেন, ২০২৩ সালের আগেই মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় এই সরকারের পতন নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য গণআন্দোলনে তরুণদের যে কোন ত্যাগ স্বীকার করার প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। 

তিনি বলেন, সারাদেশে হত্যা, খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, চুরি ও লুটপাট ছাড়া আর কিছুই নেই। বর্তমান সরকার চুরি-ডাকাতি করতে করতে দেশকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে, যে দলের সাধারণ সম্পাদক নিজেই সে কথা স্বীকার করেছেন।

আওয়ামী লীগ মুখে সব সময় গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার কথা বলে, কিন্তু কাজ করে তার উল্টো এমন দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাকশাল কায়েম করে একবার তারা গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছিল। ১৯৯০ সালে সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছি।

তিনি বলেন, দেশের জনগণ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে। এই সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

ফখরুল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই সরকারের পদত্যাগ করিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে দ্রুত দুর্বার আন্দোলন করতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনার পরিচালনায় অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে হবে। 

এ জন্য প্রয়োজন হচ্ছে কঠোর আন্দোলন। বিএনপিও বলছে, দেশ যাবে কোন পথে ফায়সালা হবে রাজপথে। যে বাংলাদেশে ছিলো গণতান্ত্রিক, সেই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে বিএনপি ফিরিয়ে দিবে বলেও আশাবাদ জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, নির্বাচন হবে ব্যালটে ইভিএম এ নয়। সেই সাথে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব নেতাকর্মীদের নামে মামলা প্রত্যাহার হলেই নির্বাচনের সমান সুযোগ তৈরি হবে বলেও মনে করেন তিনি। 

এদিকে, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেছেন, বেইমানদের জায়গা বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।

তিনি বলেন, কানে একটা কথা এসেছে- আমাদের দলের মধ্যে একটা ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হালুয়া-রুটি দেবে, এ লোভে কিছু লোক চলে যাবে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমনটা হলে সেই সব ব্যক্তিদের বিএনপিতেও ঠাঁই হবে না। 

সরকারের উদ্দেশে জয়নুল আবেদীন বলেন, এ দল জিয়াউর রহমানের দল, খালেদা জিয়ার দল, তারেক রহমানের দল। যত চেষ্টাই করেন এ দলকে ভাঙা যাবে না। এ দল মচকাবে ভাঙবে না।   


আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্দোলনের কী দেখেছেন? এরশাদ ৯ বছর ক্ষমতায় ছিল, তখন আমাদের দেশনেত্রীর নেতৃত্বে আন্দোলন সফল হয়েছে। কোনো ষড়যন্ত্র কাজে আসেনি। 

আপনারা বড় স্বৈরাচার, ভাবছেন আপনাদের ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে না। শ্রীলঙ্কার কথা স্মরণ করেন। কিভাবে জনগণের আন্দোলনের কাছে হার মেনেছে। আমাদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশনায়ক তারেক রহমান। অতএব, এ আন্দোলন থামানো যাবে না।

অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের দিকে দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে। বোন তার ভাইকে হারিয়েছে, মা-বাবা তার সন্তান হারিয়েছে, স্ত্রী তার স্বামীকে হারিয়েছে, সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছে। 

এসব পরিবার হারানো স্বজনদের অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে। আশা করে আছে, এ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে স্বজনহারা পরিবার তার প্রিয় স্বজনের সন্ধান পাবে। আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ভোটাধিকার ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

২ দিন ১ ঘন্টা আগে