ঢাকা ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

চট্টগ্রাম-ঢাকা নৌপথ খনন ও টার্মিনাল নির্মাণে চুক্তি সই

হাবিব রহমান, একাত্তর
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২২ ২০:০৭:৫৯ আপডেট: ১৪ মে ২০২২ ২৩:০১:৪৫
চট্টগ্রাম-ঢাকা নৌপথ খনন ও টার্মিনাল নির্মাণে চুক্তি সই

পণ্য পরিবহণ ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংকের সাথে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়। চুক্তি অনুযায়ী ৪৮৭ কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হবে। 

এতে খরচ হবে ৪৩০ কোটি টাকা। এর আগে দেশের স্বার্থ রক্ষা না হওয়ায় ৪১৩ কিলোমিটারের প্রথম ধাপের চুক্তিটি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ৯০০ কিলোমিটার নৌপথ তৈরির প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৩০৫২.৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি ধাপে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ছিলো। 

কিন্তু বিদেশি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে ভুলের কারণে প্রথম ধাপের চট্টগ্রাম-চাঁদপুরে নৌ রুট নিয়ে ৪১৩ কিলোমিটারের চুক্তিটি করা হয়নি। তাই পুরো প্রকল্পের টাকা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। 

দ্বিতীয় ধাপের দরপত্র অনুযায়ী ৩১৫ কিলোমিটারের খনন কাজ শুরু হচ্ছে এ মাসেই। মুন্সিগঞ্জ, ঘোড়াশাল, আশুগঞ্জ, নবীনগর, নরসিংদী, বাঞ্ছারামপুর, দাউদকান্দির মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীতে চলবে এই খনন কাজ। তৃতীয় ধাপে খনন করা হবে ১৭২ কিলোমিটার নৌপথ। 

শনিবার (১৪ মে) রাজধানী ঢাকার হোটেল রেডিসনে এ সংক্রান্ত চুক্তিপত্র সই হয়। অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পুরো প্রকল্প শেষ হতে সময় লাগবে সাড়ে পাঁচ বছর। এটি শেষ হলে নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সক্ষমতা বাড়বে।

তিনি বলেন, আজ যে দুটি চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে তার কাজ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের নৌপথের যে অগ্রগতি হবে তাতে দেশের নৌপথ ব্যবহারকারী পণ্যবাহী যান ও যাত্রীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯০০ কিলোমিটার নৌপথ খনন, ছয়টি স্থানে নৌযানসমূহের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, তিনটি ফেরি ক্রসিং এলাকায় ড্রেজিং, চারটি প্যাসেঞ্জার ও দুটি কার্গো টার্মিনাল ও ১৫টি ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ এবং দুটি মাল্টিপারপাস ভেসেল সংগ্রহ করা হবে।

আরও পড়ুন: নির্দলীয় সরকার ছাড়া কারো সঙ্গে আলোচনা নয়: ফখরুল

প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের আশুগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে মূল নদী ও শাখাসমূহ (প্রায় ৯০০ কিলোমিটার নৌপথ) পারফরম্যান্স বেইজড কন্ট্রাক্ট ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ এবং নাব্যতা সংরক্ষণ করা হবে। এ নৌ-করিডোর মধ্যে রয়েছে ছয়টি স্থানে নৌযানসমূহের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ।

প্রকল্প পরিচালক আইয়ুব আলী জানান, এসব কাছে মোট খরচ হবে প্রায় ২৪৫২ কোটি টাকা। চুক্তিপত্র অনুযায়ী ১৩টি নৌরুটের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ খনন কাজ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গালফ কবলা-কর্ণফুলী এবং ধারতি-বঙ্গ যৌথ প্রতিষ্ঠান। 


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন