ঢাকা ১৮ আগষ্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯

নথিতে ভোগ্যপণ্য, বাস্তবে খালি কন্টেইনার!

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২২ ২০:০৫:৫৭ আপডেট: ২৬ মে ২০২২ ২০:১৯:৩৩
নথিতে ভোগ্যপণ্য, বাস্তবে খালি কন্টেইনার!

নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও নদীবন্দরে আসা একটি কন্টেইনারে মালামাল চোরাচালানের অভিযোগ উঠেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। 

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জমজম কর্পোরেশনের আমদানির ঘোষণাপত্রে বলা হয় কন্টেইনারটিতে আছে চকলেট, কফিমেট আর মিনারেল ওয়াটার। অথচ কাস্টমস গোয়েন্দারা চ্যালেঞ্জ করে সেই কন্টেইনার খুলে কিছুই পাননি। খোলার পর পুরো কন্টেইনারটি খালি পান তারা। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও বন্দরে জমজম কর্পোরেশনের সেই কন্টেইনারটি খোলা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের দাবী, পানগাঁও বন্দর কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে এই কন্টেইনারের যাবতীয় মালামাল নিয়ে যায় আমদানিকারক জমজম কর্পোরেশন। 


শুল্ক গোয়েন্দারা জানান, ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর বন্দর জেলা নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও নদীবন্দরে সিঙ্গাপুর থেকে আসা একটি কন্টেইনারে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানের পণ্য এসেছে বলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। 

আমদানিকারক জমজম কর্পোরেশনের নামে এ পণ্য আমদানিতে সহযোগিতা করেন সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এমএস পরসাইয়া। কন্টেইনারে কফিমেট, চকলেট, এবং মিনারেল ওয়াটার রয়েছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। 

কিন্তু কাস্টমস গোয়েন্দারা ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর ২০ ফুট লম্বা ও সাড়ে ছয় টন ওজনের কন্টেইনারটি খোলার জন্য চ্যালেঞ্জ করলে গড়িমসি করতে থাকে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে এই বছরের ১৩ই ফেব্রুয়ারি আবারও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে কন্টেইনারটি খুলে কাস্টমস গোয়েন্দাদের দেখানোর জন্য বলা হয়।  

কাস্টমস গোয়েন্দাদের ধারনা ছিলো, এই কন্টেইনারে অবৈধ সোনা বা সিগারেট চোরাচালান হতে পারে। তবে কন্টেইনার খুলে দেখাতে অস্বীকৃতি জানায় পানগাঁও নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। 

অবশেষে পানি অনেক দূর গড়ালে বৃহস্পতিবার (২৬ মে) পানগাঁও বন্দর কর্তৃপক্ষ জমজম কর্পোরেশনের কন্টেইনারটি খুলতে রাজি হয়। কিন্তু খুলে কন্টেইনারের ভেতরে কিছুই পাননি শুল্ক গোয়েন্দারা। 

শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের দাবী, পানগাঁও বন্দর কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে এই কন্টেইনারের যাবতীয় মালামাল নিয়ে যায় আমদানিকারক জমজম কর্পোরেশন। 

শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ জানায়, সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে রপ্তানির সময় কন্টেইনারের গেটে যে নাম্বার দেয়া ছিলো কন্টেইনারটি খোলার সময় সেই আমদানির নাম্বারের মিল পাওয়া যায়নি। এতেই স্পষ্ট হয় যে এখানে চোরাচালানের মত বড় কোনো ঘটনা ঘটেছে। 

এই বিষয়ে একাত্তরের পক্ষ থেকে পানগাঁও নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ক্যাপ্টেন সারোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কথা বলতে পারবে। 

আরও পড়ুন: ডলারের একক দাম নির্ধারণ করে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

একাত্তরের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ওমর ফারুকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমদানি ঘোষণা দেয়ার পরেও কন্টেইনারের ভেতরে কোনো ধরনের মালসামান না থাকা নতুন কিছু নয়। অনেক সময় অনেক অসাধু ব্যবসায়ী মানি লন্ডারিংয়ের জন্য এই জাতীয় ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থা ওইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়। 

জমজম কর্পোরেশন পানগাঁও বন্দরে এই জাতীয় ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তদন্তপূর্বক সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। 

এদিকে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, যে বা যারাই অভিযুক্ত কন্টেইনার থেকে মালামাল সরিয়ে নিয়ে থাকুক না কেন, তদন্তের পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। 


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৬ দিন আগে