ঢাকা ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

বোলিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের সামনে রানের পাহাড়

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২১ ১৭:৪৩:৪৬ আপডেট: ২০ জুলাই ২০২১ ১৭:৪৫:৫২
বোলিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের সামনে রানের পাহাড়

সাইফুদ্দিনের ইকোনমিক রেট যখন ১০ দশমিক ৯০ তখন বাদ যাননি মোসাদ্দেক, মুস্তাফিজরাও। এতো কিছুর মাঝেও খরচ কিছুটা কম করেছেন সাকিব, তাসকিন আর মাহমুদুল্লাহ। আর এতে জল গড়িয়েছে অনেক দূর। জিম্বাবুয়ের খাতায় তখন রান ২৯৮। তবে তারা হারিয়েছে সবকটি উইকেট।

হোয়াইটওয়াশ এড়াতে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ে ২৯৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশকে। সবকটি উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা সংগ্রহ করেছে ২৯৮ রান।

ম্যাচে প্রতিরোধ গড়ে  চাকাভাকে দলীয় ১৭২ রানে (৩৫তম ওভার) ফিরিয়ে রাশ টেনে ধরার সুযোগও ছিল বাংলাদেশের। সেই রাশ ধীরে ধীরে আলগা হয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশের বাজে বোলিংয়ে। যার সুযোগটা কাজে লাগান সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল। দুজনের ঝড়ো গতির ব্যাটিংয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে জিম্বাবুয়ের স্কোরবোর্ড। ৮০ বলে করা ১১২ রানের এই জুটি ভাঙে রাজার বিদায়ে। ৫৪ বলে ৫৭ রানে ফিরেছেন রাজা। তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও একটি ছয়। মোস্তাফিজের বলে তার ক্যাচ নেন মোসাদ্দেক।

সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল সাইফউদ্দিন ৪৯তম ওভারে তিনটি উইকেট নিলেও ততক্ষণে ফুলেফেঁপে উঠেছে স্বাগতিকদের স্কোরবোর্ড। তাতে অবশ্য ৩০০ আটকানো গেছে। ফিরিয়েছেন ৪৩ বলে ৫৯ রান করা বার্লকেও। আগ্রাসী এই ব্যাটসম্যানের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৪ ছয়। শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ৪৯.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।  

অথচ শুরুতে স্থায়ী সঙ্গী না পেয়ে একপ্রান্ত আগলে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন ওপেনার রেজিস চাকাভাই। তিনটি ভালো জুটি গড়েন। মারুমানির সঙ্গে ৩৬, টেলরের সঙ্গে ৪২ ও মায়ার্সের সঙ্গে ৭১ রানের জুটিই ভালো সংগ্রহের ভিত এনে দেয় জিম্বাবুয়েকে।

শুরুটা যদিও খুব সাবধানী ছিল জিম্বাবুয়ের। টস জিতে শুরুতে বোলিং নিলেও বাংলাদেশের দুই পেসার উইকেট ফেলতে পারেননি। বরং নবম ওভারে বোলিং করতে এসে ব্রেক থ্রুটা এনে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। সুইপ করতে গিয়ে এলবিডাব্লিউতে ফেরেন ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি (৮)।

প্রথম উইকেট পতনের পর সম্ভাবনাময় দেখাচ্ছিল টেলর ও চাকাভা জুটি। শুরুর অস্বস্তি কাটিয়ে উঠে তারা। হয়তো আরও ভয়ানক হয়ে ওঠতে পারতো এই জুটি, তার আগেই ১৮তম ওভারে এই জুটি ভেঙেছেন দুইশোতম ওয়ানডে খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহ। ফেরান ২৮ রান করা টেলরকে।

জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে খেলতে থাকেন রেজিস চাকাভা। ডিয়োন মায়ার্সকে নিয়ে গড়েন ৭১ রানের জুটি। পরে এই প্রতিরোধ ভেঙে আবারও স্বস্তি ফিরিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহই। ৩৪ রান করা মায়ার্স ফিরে যান বোল্ড হয়ে।

এই জুটি ভাঙায় কাজও হয় অবশ্য। পরের ওভারেই দুই ম্যাচ পর খেলতে নামা মোস্তাফিজ ফেরান ওয়েসলে মেধেভেরেকে। কাটার মাস্টারের স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ উঠিয়ে দেন তিনি। দ্রুত দুই উইকেট পড়ে গেলে গুঁড়িয়ে যায় চাকাভার প্রতিরোধও। ক্যারিয়ার সেরা ৮৪ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন তাসকিন। তাতে ছিল ৭টি চার ও একটি ছয়। 

৮ ওভারে সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল সাইফউদ্দিন ৮৭ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ৯.৩ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। দুইশোতম ওয়ানডে খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহও ৪৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচটা স্মরণীয় করে রেখেছেন। একটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসান। পূর্ণ ১০ ওভারে দুজনেই রান দিয়েছেন ৪৮ ও ৪৬। 

একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন