ঢাকা ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

ডিমলায় সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি, হুমকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিনিধি, নীলফামারী
প্রকাশ: ৩১ আগষ্ট ২০২১ ২০:২১:২৫ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:২৭:২৭
ডিমলায় সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি, হুমকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর স্পার বাঁধ ভেঙে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের চার চরগ্রামের সহস্রাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে ওই ইউনিয়নের কুঠিপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পটি। 

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) বিকেল পর্যন্ত ভাঙন কবলিত স্থানে বালির বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে মঙ্গলবার বিকালে ওই ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী। এর আগে গত সোমবার (৩০ আগস্ট)  পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এলাকাটি পরিদর্শন করেন।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান, গত রবিবার (২৯ আগস্ট) সকালে তিস্তা নদীর পানির তোড়ে ইউনিয়নটির ভেন্ডাবাড়ি গ্রামে নদীর দুই নম্বর স্পার বাঁধটিতে ভাঙন দেখা দেয়। 

সেদিন বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা হলেও মধ্য রাতে বাঁধের দেড়শ মিটার ভেঙে ওই ইউনিয়নের ভাবনচুর, দক্ষিণ সোনাখুলি, ভেন্ডাবাড়ি ও কুটিপাড়া গুচ্ছগ্রাম (আশ্রয়ণ প্রকল্প) প্লাবিত হয়। তলিয়ে যায় অসংখ্য আবাদি জমি। সোমবার সকাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই ভাঙন ঠেকাতে কাজ শুরু করে, যা মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত রাখে।


তিনি আরও বলেন,‘বাধ ভেঙে ইউনিয়নের চারটি চরগ্রাম প্লাবিত হয়ে বন্যা কবলিত হয়েছে পড়েছে প্রায় এক হাজার পরিবার। মঙ্গলবার পানি কিছুটা কমলেও একশ’ পরিবারের বাড়ি ঘরে এখনও পানি। ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে ইউনিয়নের কুটিপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪০ পরিবার। ওই ৪০ পরিবারসহ শতাধিক পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ে সরে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে দুইশ’ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে তিন মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে যা বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) বিতরণ করা হবে।

তিস্তা নদীর ডানতীর প্রধান বাঁধে আশ্রয় নেওয়া ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের নবীর উদ্দিন বলেন, বাঁধ ভেঙে নদীর পানি গ্রামে প্রবেশ করায় বাড়ি-ঘরসহ আমার পাঁচ বিঘার আমন ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। রবিবার দুপুর থেকে পরিবার নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। 

একই বাঁধে আশ্রয় নেওয়া ওই গ্রামের ইমরান হোসেন বলেন, বাড়ি-ঘর ভেঙে গেছে। স্ত্রী,সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে বাধে আশ্রয় নিয়েছি। বৃষ্টি হওয়ায় খুব কষ্টে আছি। 

আরও পড়ুন: সালমান শাহর মৃত্যু: শেষবারের মতো নারাজি শুনানি ৩১ অক্টোবর

নীলফামারী ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত স্পার বাঁধের প্রায় দেড়শ’ মিটার অংশ ভেঙে নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। রবিবার থেকে সেখানে বালির বস্তা ফেলা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে যাতে আর ভাঙতে না পারে এ জন্য মঙ্গলবার বিকাল তিনটা পর্যন্ত ওই স্থানে এক হাজার বালির বস্তা ফেলা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছি। ইতিমধ্যে গত সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ৬০ মিটার) ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর আগে সকাল ছয়টায় ৪০, সকাল ৯টায় ৪২ এবং বেলা ১২টায় ৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন