ঢাকা ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে অস্থির হাওয়া

নাজমুল রানা
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৩০:৩৩ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৫৬:১৮
দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে অস্থির হাওয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্থিরতা দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে। কোথাও দলের ভেতরে অন্তর্ঘাত, কোথাও আবারও প্রকাশ্যেই চলছে রেষারেষি। কখনো খেলোয়াড় আবার কখনো কোচ পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। কেউ আবার আছেন পদ হারানোর শঙ্কায়। 

অস্থিরতার আদর্শলিপি পাঠ বহুদিন ধরেই চলছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে; চলছিলো পছন্দ অপছন্দের নানা হিসেব নিকেশও। যার প্রথম প্রদর্শনীটা হয়ে গেল জিম্বাবুয়েতে, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিদায় বলায়।

তখনো কেউ জানতো না পরের অঙ্ক কী অপেক্ষা করছে, কী ঘটতে যাচ্ছে ওপারের পর্দায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা আয়োজনে বিসিবি, সেই নিয়েই নানা গুঞ্জন চলছিল ক্রিকেট পাড়ায়। তার মধ্যেই বড় চমকটা দিলেন তামিম ইকবাল। জানিয়ে দিলেন ওমানের বিমানটা তিনি ধরছেন না, মরুর বুকের বিশ্ব আসরে তিনি খেলছেন না।

সেই আলাপের সাথে আরো একটা আলাপ আছে, মুশফিকুর রহিম আর টি-টোয়েন্টিতে কিপিংটা করছেন না। অনেকেই বললেন মুশি উদারতার পথে হাঁটলেন, আসলেই কী তাই? হতে পারে, তবে মুশফিকের এই সরে দাঁড়ানো যে স্বেচ্ছায় নয়, তা বুঝতে নিশ্চয়ই কোনো গবেষণার দরকার পড়বে না।

আরও পড়ুন: মাঠে ফিরছে আইপিএল

বাংলার ক্রিকেটের অস্থিরতার রেশটা ভারতেও আছে। নানা গুঞ্জন আর আলোচনার চর্বিতচর্বণের পর বিরাট কোহলি জানালেন বিশ্বকাপটাই শেষ, তারপর তিনিও আর টি-টোয়েন্টিতে কাপ্তানি করবে না। বিরাটও আওড়েছেন চাপ কমানোর মন্ত্র। তবে সার্বিক ঘটনা বলছে, চাপের উত্তাপ কমাতেই সরে দাঁড়িয়েছেন বিরাট।

ভারতের কোচ রবি শাস্ত্রীর গলায় ছুরিটা ধরা আছে, বিশ্ব মিশন শেষ করে তাকেও হয়তো বিদায় জানাবে ভারত। সেখানেই আছে অস্থিরতার চাপ, পাওয়া না পাওয়ার নানা হিসেব আর অসন্তোষের নানা আলাপ।

ভারত শত্রু পাকিস্তানের ক্রিকেটেও মিত্রতা নেই, আছে কেবল অন্তর্ঘাতের গল্প। বিশ্বকাপের আগেই কোচের পদ ছেড়েছেন নানা কাণ্ডে আলোচিত মিসবাহ, ওয়াকারও হেঁটেছেন একই পথে। রমিজ রাজা বোর্ড প্রধানের চেয়ারে বসে বাবর আজমকেও দিয়েছেন কড়া বার্তা, চাহিদা মেটাতে না পারলে তাকেও ক্যাপ্টেন্সি হারাতে হবে।

এর মধ্যেই ঘটে গেছে আরেক ঘটনা। রমিজের কপালের ভাঁজটা তাই চওড়া। নিরাপত্তার অজুহাতে সিরিজ শেষ না করেই পাকিস্তান ছেড়েছে কিউইরা। ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে পাকিস্তানে ক্রিকেট ফেরানোর পরিকল্পনাও।

এমন অস্থিরতার খতিয়ান নিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হাজির হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া। হয়তো এর কিছুটা প্রভাবও পড়বে মাঠের খেলায়। ভেতরে শঙ্কা আর অসন্তোষের মামদো ভূত চাপিয়ে কী আর মাঠে পুরোটা দেয়া যায়?


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন